কোম্পানির প্রতিনিধির দেওয়া ভুল ওষুধ প্রয়োগে ঠাকুরগাঁওয়ে মারা গেছে ৩ হাজার মুরগি

Date: 2022-11-06
news-banner


মাহমুদ আহসান হাবিব,ঠাকুরগাঁও ॥ ঠাকুরগাঁওয়ে কম্পানির প্রতিনিধির দেওয়া ভ’ল ওষুধ প্রয়োগে একটি খামারে মারা গেছে প্রায় দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি মুরগি ।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৩ নং আকচা ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামের মমিনুল হকের খামারে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল রোববার ১৪ শ ৮০ টি এবং গত শনিবারের ১৬ শ সহ ওই খামারে মারা গেছে প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি মুরগি।

ক্ষতিগ্রস্থ খামারি মমিনুল ইসলাম জানান, আমি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মুরগি খামারের এ ব্যবসা করে আমার দুই ছেলে মেয়েকে বিশ^বিদ্যালয়ে ও স্কুলে লেখাপড়া করানো সহ সংসার চালিয়ে আসছি। কিন্তু এধরনের দূর্ঘটনা কখনো ঘটেনি। গত কদিন আগে এফএনএফ নামের একটি ওষুধ কম্পানির ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি মাহাবুব আমাকে মুরগির ঠান্ডা ও সর্দির ওষুধ টিআমোভেট দিতে বলে এবং বলে এ ওষুধ প্রয়োগে মুরগির কোন ক্ষতি হলে কম্পানি তা দেখবে। তার কথামত আমি ১৬ হাজার টাকার ওষুধ কিনে গত শুক্রবার খামারের ৪ হাজার সোনালি জাতের মুরগি গুলোকে খাইয়ে দেই। শনিবার থেকেই আমার মুরগি গুলো মরতে শুরু করে। ৪ হাজার মুরগির মধ্যে ৩ হাজারের বেশি মুরগি মরে গেলে আমার তো আর কিছই থাকলোনা। মুরগি গুলোর বয়স ৪২ দিন করে হয়েছিলো। ৬০ দিন বয়স হলেই সেগুলো বিক্রি করতাম। আমার এ মুরগি গুলির পেছনে ৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। বুঝতে পারছিনা এখন কি করবো। আমিতো পথে বসে যাবো। এ ঘটনার পর ওই ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধিকে ফোন করলে তিনি আর ফোন ধরছেন না।

এফএনএফ ওষুধ কম্পানির ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি মাহাবুব এর সাথে তার মুঠোফোনে ( ০১৭২২৩৫৬৬৬৯) কথা হলে তিনি বলেন, আমরা মমিনুলকে যে ওষুধ দিয়েছি তা তিনি হয়তো সঠিক মাত্রায় দেননি। আমার তো এখানে কোন দোষ দেখছিনা।

তবে মমিনুলের খামারে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে আসা ভেটেরিনারি চিকিৎসক ডা: আল মামুন জানান, টিআমোভেট নামের এন্টিবায়োটিক এ ওষুধটি কোন ভাবেই সোনালি এ জাতের মুরগির জন্য নয়। এ ওষুধটি লেয়ার জাতের মুরগির জন্য। এখানেই আসলে ভ’লটি করেছে ওই কম্পানির প্রতিনিধি।

Leave Your Comments