কাঙ্ক্ষিত চাঁদা না দেওয়ায় এক প্রবাসীর তিনটি দোকানঘর দখল, নির্মাণকাজে বাধা, নির্মাণসামগ্রী নষ্ট এবং পরিবারের সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শওকত, নাহিদ মোল্লা ও আলমগীরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রবাসী মাসুম পারভেজের মা রাহেলা বেগম গাজীপুরের বিজ্ঞ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার আশুলিয়া থানার জিরানীর মুসলিমটেক এলাকায়।
গত রোববার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি দোকানের মধ্যে ‘নানা ভাই টেইলার্স অ্যান্ড ফেব্রিক’ নামের দোকানটি খোলা রয়েছে। বাকি দুটি দোকান তালাবদ্ধ। দোকানদার সোহেল রানা জানান, তিনি দোকানের ভাড়া শওকতকে দেন।
দোকানগুলোর পেছনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজের জন্য আনা ইট, বালু ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ক্রয়সূত্রে সম্পত্তির মালিক হয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনটি দোকানঘর থেকে ভাড়া পেয়ে আসছিলেন প্রবাসী মাসুম পারভেজ। পরে দোকানগুলোর পেছনে নতুন স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয় তাঁর পরিবার। এ জন্য ঘটনাস্থলে ইট, বালু ও সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রী আনা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে স্থানীয় শওকত, নাহিদ মোল্লা ও আলমগীর বেআইনিভাবে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।
এ সময় প্রবাসীর মা রাহেলা বেগম প্রতিবাদ করলে তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০ লাখ টাকা না দিলে নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা নির্মাণাধীন দেয়াল ভেঙে ইট, বালু ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর ক্ষতিসাধন করেন। পরবর্তী সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভাড়াটিয়া দোকানদারদের হুমকি দিয়ে তিনটি দোকানঘরে তালা লাগিয়ে সেগুলো দখলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাহেলা বেগম বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে গাজীপুরের বিজ্ঞ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী) আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে কাশিমপুর থানাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
পরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর আসামিরা নিম্ন আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন বলে মামলার সূত্রে জানা গেছে।
রাহেলা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আসামিরা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে আমাকে অনবরত ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এখনো দখল হয়ে যাওয়া দোকানঘরগুলো ফেরত পাইনি। নির্মাণকাজের জন্য আনা ইট, বালু ও সিমেন্ট নষ্ট হচ্ছে। তিনটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এই সম্পত্তি কিনেছি। এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে চরম কষ্টে পড়েছি।”
তিনি দোকানঘরগুলো ফিরে পাওয়া, নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শওকতের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলার অনুরোধ জানান। তবে ফোনে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেননি।
উল্লেখ্য, চাঁদা দাবি, মারধর, নির্মাণকাজে বাধা ও দোকানঘর দখলের অভিযোগগুলো মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।