সাংবাদিকদের সম্মানহানি ও তাঁদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংযত আচরণ করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। অন্যথায় দেশব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন এবং উচ্চ আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
ক্লাবের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, চিকিৎসক রাফসান জানি ও তাঁর শ্যালিকা সামিয়া আফরোজকে ঘিরে পূর্বের একটি অভিযোগ ও মামলা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের দাবি, অতীতে সহযোগিতা চাওয়া ও অভিযোগ উত্থাপনকারী সামিয়া আফরোজের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সমঝোতার পর সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, যা সাংবাদিকদের মর্যাদাহানির শামিল।
নেতৃবৃন্দ আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অতীতে যেসব অভিযোগ, বক্তব্য ও তথ্য-প্রমাণ সামনে এসেছিল, সেগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন, পারিবারিক সমঝোতা বা মামলার বর্তমান পরিস্থিতির কারণে পূর্বের অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি আইনগতভাবে যাচাই করা জরুরি। কিভাবে পূর্বের সকল তথ্যপ্রমাণ মিথ্যা প্রমাণ করবে লম্পট ডাক্তার রাফসান জানি?
তাঁদের মতে, কোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনগত কর্তৃপক্ষের। তবে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে অসম্মানজনক বক্তব্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হলে আইনসম্মতভাবে তার প্রতিকার চাওয়া হবে।
মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকদের সম্মান ও পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষায় তাঁরা ঐক্যবদ্ধ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সংযত হয়ে ক্ষমা না চাইলে সংগঠনের পক্ষ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে দেশব্যাপী মানববন্ধন এবং উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে এধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তির জন্য ধর্ষক ডাক্তার রাফসান জানি ও ৭ম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার আপন শ্যালিকা সহ পুরো পরিবারটাকেই সমাজের জন্য 'নষ্ট পরিবার' আখ্যায়িত করছেন সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজ।
উল্লেখ্য যে, এই ধর্ষিত অসহায় সামিয়া আফরোজ বিগত প্রায় ৮ মাস আগে তিনি প্রতারণা, ব্লাকমেইল, শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন এবং ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে হয়রানি সহ নিরাপত্তা হীনতার অভিযোগ এনে আইনগত সহায়তার জন্য নিজের এলাকা লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর ও হাতিবান্ধা থানায় অভিযোগ করেছিলেন। পরবর্তীতে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকায় ভাড়া বাসায় ডাক্তার রাফসান জানি ও সামিয়া আফরোজ স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে দীর্ঘদিন বসবাস করেছে এবং মণিরামপুরের সাংবাদিকদের সহযোগিতা নিয়ে সামিয়া আফরোজ মণিরামপুর থানাও একটি এজাহার করে। একাধিক পত্র পত্রিকায় ছড়িয়ে পড়ে এক অসহায় নারীর লোমহর্ষক কাহিনি। সাংবাদিকদের কাছে একাধিক তথ্য প্রমাণ দিয়েছে সামিয়া আফরোজ নিজেই। সামিয়া আফরোজের কান্নাকাটি করে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাওয়া, তার মায়ের দেওয়া ভিডিও জবানবন্দি, পারিবারিক ভাবে রাফসান জানির ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও, সামিয়া আফরোজের সাথে আলাপচারিতায় রাফসান জানির বিয়ের অঙ্গিকার- যে ভিডিও অসহায় নারী নিজেই করেছে। অসংখ্য কথোপকথন ও একাধিক অন্তরঙ্গ ছবিও দিয়েছে সাংবাদিকদের।
এরপর সাংবাদিকেরা সত্যের কলম নাড়াতে লম্পট ডাক্তার রাফসান জানির চাকরির টানাপোড়েন আর আটক হওয়াতে সাংবাদিকেরা ও সচেতন মহল প্রশাসন এবং আদালতকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎই সামিয়া আফরোজ পারিবারিক সমঝোতায় বিজ্ঞ আদালতে মিথ্যা স্বাক্ষ্য দিয়ে আপন দুলাভাই রাফসান জানিকে মামলা থেকে বাঁচিয়ে নিয়েছে। আর দুই পাপী এক হয়ে আরও একটি হীনমন্যতা পরিচয় দিয়েছে। মামলা থেকে রেহাই পেয়েই সমাজের অসাধু ব্যক্তিরা রাতদিন নিউজকে দিয়েছে সাধু সাজার বক্তব্য। আসলে পূর্বের সকল প্রমাণিত তথ্য আর সত্যকে যে লুকানো সম্ভব না, সেটা তারা বুঝতে পারেনি। নষ্ট পরিবারের নোংরামিতে সাংবাদিকদের সম্মানহানির শেষ দেখতে চান মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দ।