সাতক্ষীরার গাভা দাখিল মাদরাসার সুপারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পিতা থানায় লিখিত আবেদন করে ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা দাবি করেছেন।
লিখিত আবেদন সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর গাভা দাখিল মাদরাসার ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী মারিয়া খাতুন (১০) প্রতিদিনের মতো সকালে মাদরাসায় যায়। প্রথম ক্লাস শেষে পাশে দোকানে খাবার কিনতে যাওয়ার সময় মাদরাসার সুপার মো: আজাদুল ইসলাম (৬০) তাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং শাসন করার জন্য মুখের চোয়াল টিপে ধরে দোকানে যেতে নিষেধ করেন। পরবর্তীতে শিশুটি বাড়িতে ফিরে বিষয়টি তার মায়ের কাছে জানালে, পারিবারিক ও মাদরাসার অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে একটি কুচক্রী মহল ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করে।
শিক্ষার্থীর পিতা মোঃ মনিরুজ্জামান নয়ন (৪২) আবেদনে জানান, তার চাচা মাওলানা আব্দুর হক (সহকারী শিক্ষক, গাভা দাখিল মাদরাসা), অন্য দুজন শিক্ষক এবং মাদরাসার প্রাক্তন সভাপতি বর্তমান সুপারের বিরোধী ছিলেন। তারা তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে শিশুটিকে সুপারের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা শিখিয়ে দেয়। এমনকি শিশুটির মুখে পুঁইশাকের পাতা ঘষে কৃত্রিম দাগ বানিয়ে তা দিয়ে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে মনে হয় সুপার তাকে নির্যাতন করেছেন।
অভিযোগকারী পিতা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, মাদরাসার বর্তমান সুপার তার মেয়ের সাথে কোনোরূপ খারাপ আচরণ করেননি এবং তার বিরুদ্ধে তাদের কোনো প্রকার অভিযোগ বা মামলা করার ইচ্ছা নেই। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কোন্দলের জের ধরে একটিপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সুপারের সম্মানহানি করতে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে বলেও তিনি আবেদনের উল্লেখ করেন।
বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরা থানা পুলিশ বিষয়টি অবহিত রয়েছে।