কেঁচি ও স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করে টাকা ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাই

Date: 2023-03-11
news-banner


আব্দুল্লাহ আল মামুন (ঢাকা ব্যুরো প্রধান):  রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে মো. শাওন হোসেন (২৩) ও মো. তানভীর আহমেদ (১৮) নামের দুই যুবককে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে ধারালো কেঁচি ও ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে গুরুতর আঘাত করে নগদ ৭০ হাজার টাকা ও ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যমাণের দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে পলিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ভিকটিম শাওন হোসেন ও তানভীর আহমেদ আপন চাচাতো ভাই। কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আচারওয়ালা ঘাট এলাকায় তাদের সাথে সিনেমা স্টাইলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জনের সাথে মূল নায়ক হিসেবে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানা এলাকার মৃত: আব্দুল আলীর ছেলে মো. আল আমীন নেতৃত্ব দিয়েছে বলে জানা যায়। সে বর্তমানে কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় মধ্য ইসলাম নগরস্থ ৭ নং গলিতে জনৈক কাদের মিয়ার বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত।  
এ বিষয়ে ভিকটিম শাওনের বাবা ও তানভীরের চাচা মৃত: ওছিম উদ্দিন ব্যপারীর ছেলে মো. আল আমীন (৫৪) বাদী হয়ে গতকাল শুক্রবার কামরাঙ্গীরচর থানায় উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী, ৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৪২৭/৫০৬ ধারায় যার মামলা নম্বর- ২২, তারিখ- ১০/০৩/২০২৩ খ্রিঃ। 
প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলাসূত্রে জানা যায় যে, কামরাঙ্গীরচর থানাধীন ঝাউলাহাটি চৌরাস্তার ১০৩/বি নং হোল্ডিংস এর বাসিন্দা মো. আল আমীনের ‘সাঈদ জেনারেল ষ্টোর’ নামীও পেপসির ডিলারশিপের ব্যবসা রয়েছে। ঘটনার দিন গত ৭ মার্চ (মঙ্গলবার) দুপুর সাড়ে ১২’টার দিকে তাঁর ব্যবসার মালামাল পরিবহণের গাড়ির ড্রাইভার মো. সালাউদ্দিন (৩০) কামরাঙ্গীরচরের আচারওয়ালা ঘাটস্থ ৭ নং গলির মাথায় ‘ভোলা ষ্টোর’ নামীয় দোকানের সামনে গাড়িটি দাঁড় করায়, এবং তাঁর মেঝো ছেলে আবু সাঈদ (২৬) ও ভাতিজা তানভীর গাড়ি থেকে পেপসি আনলোড করতে থাকে। এ সময় বিবাদী আল আমীন গাড়ির ড্রাইভারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাৎক্ষনিক সেখান থেকে গাড়ি সরাতে বলে। গাড়িটি সরানোর জন্য ড্রাইভার এক মিনিট সময় চাইলে উক্ত বিবাদী ড্রাইভারের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পর মারতে থাকে। এ সময় পেপসির ডিলার আল আমীনের ছেলে ও ভাতিজা তাদের ড্রাইভারকে গালিগালাজ ও মারধরের কারন জানতে চাইলে বিবাদী তাদেরকেও এলোপাথারি কিল-ঘুষি ও চর-থাপ্পর মারতে থাকে। মারধরের এক পর্যায়ে বিবাদী পাশে থাকা সেলুন (চুল কাটার দোকান) থেকে ধারালো কেঁচি নিয়ে এসে হত্যার উদ্দেশ্যে ঐ ব্যবসায়ীর ভাতিজা তানভীরের মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করে গভীর ক্ষত করে রক্তাক্ত অবস্থার এক ভয়ঙ্কর পরিবেশের তৈরি করে। এ অবস্থায় উক্ত ব্যবসায়ীর মেঝো ছেলের কাধে থাকা নগদ ৭০ হাজার টাকাসহ ব্যাগ ও তার গলায় থাকা ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যমাণের দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইনটি ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। 
উক্ত ব্যবসায়ী আল আমীন এই প্রতিবেদককে বলেন, “পরবর্তীতে আমি আমার ছোট ছেলে শাওন হোসেনের মুঠোফোনে সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে মারধরের কারন জানতে চাইলে উক্ত অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জন দুর্বৃত্ত আকস্মিক আমাকে ও আমার ছোট ছেলে শাওনকেও এলোপাথারি মারধর করতে থাকে। এ সময় অজ্ঞাতনামা এক দুর্বৃত্ত তার হাতে থাকা ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে সজোরে আঘাত করে আমার ছেলেটার হাতের কব্জি ভেঙ্গে ফেলে। তাদের মারধরে আমরা ডাক-চিৎকার করলে আশেপাশের কিছু মানুষ আগাইয়া আসলে দুর্বৃত্তরা আমাদেরকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।” পরে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়। সেখানে শাওনের ভাঙ্গা হাতে ব্যন্ডেজ ও তানভীরের মাথার ফাটা অংশে ৭ টি সেলাই করা হয়। এবং অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কামরাঙ্গীরচর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মোস্তফা আনোয়ার বার্তা বিচিত্রাকে বলেন, ইতোমধ্যে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাদেরকে দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Leave Your Comments