আহসান হাবীব রানা, ইবি প্রতিনিধি।।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় নির্যাতিত শিক্ষার্থী ফিনান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী ফুলপরি খাতুন দীর্ঘ ২৮ দিন পর নির্ভয়ে প্রথম ক্লাস সম্পন্ন করেছেন।
সোমবার (১৩ মার্চ) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন অনুষদ ভবনে সহপাঠীদের সাথে ফিন্যান্স বিভাগের ক্লাসে অংশগ্রহণ করে তিনি।
প্রথম দিনের ক্লাস শেষে ফুলপরি খাতুন অভিমত প্রকাশ করে বলেন, 'অনেকদিন পর বন্ধুদের সাথে আগের মত ক্লাস করতে পারছি অনেক ভালো লাগছে। বন্ধুদের সাথে আগের মতই আছি কোন সমস্যা হচ্ছে না।'
হলে কোনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি রোববার হলে উঠেছি, এখন পর্যন্ত এমন কিছু মনে হয়নি। হলের আপুরাও সুন্দর ভাবে কথা বলে, অনেক হেল্পফুল। তাছাড়া হলের স্যার'রা ও সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন।'
অভিযুক্তদের কি উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের পাঁচ জনকে বহিষ্কার করেছে প্রশাসন। তাই এটা নিয়ে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।'
এ বিষয়ে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. বখতিয়ার হাসান বলেন, 'ফুলপরির বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। ক্লাসে এসে যেন কোনো ধরণের নিরাপত্তাজনিত সমস্যা বা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়তে হয় এজন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেছি।'
গত রোববার (১২ মার্চ) বেলা ১২ টায় বাবা আতাউর রহমানের সাথে ক্যাম্পাসে আসেন ফুলপরি। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আবাসিক বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের বকুল ব্লকের ৫০১ নম্বর কক্ষে উঠেন। এখানে আজ থেকে তাঁর নামে বরাদ্দ হওয়া আসনে থাকবেন তিনি।
এর আগে গত ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরিন ফুলপরীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল থেকে স্থানান্তরিত করে তার পছন্দ মত আবাসিক বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে আসন বরাদ্দ দেন।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গনরুমে রাতভর নির্যাতন ও বিবস্ত্র ধারণা করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা ও তাঁর সহযোগিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ১৪ ফেব্রয়ারী ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় উচ্চ আদালত তদন্ত কমিটি গঠন করে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়, হল ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনগুলোতে ঘটনার সত্যতা মিললে হল প্রশাসন ও ছাত্রলীগ থেকে জড়িত ৫ জন সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, তাবাসসুম ইসলাম , হালিমা খাতুন ঊর্মি ইসরাত জাহান মিম এবং মোয়াবিয়া জাহানকে হল ও ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করে।
এছাড়া গত বুধবার (১ মার্চ) উচ্চ আদালতের আদেশে নির্যাতনে জড়িত ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, তাবাসসুম ইসলাম , হালিমা খাতুন ঊর্মি ইসরাত জাহান মিম এবং মোয়াবিয়া জাহানকে সাময়িক বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হল প্রভোস্টকে অব্যাহতি ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফুলপরীকে ইবির যে কোন হলে পছন্দ মত সীট দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এ আদেশের পর গত ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে অভিযুক্তদের সাময়িক বহিষ্কার এবং ৭দিনের মধ্যে কেনো তাদের স্থায়ী বহিস্কার করা হবেনা সেই মর্মে কারণ দর্শানোর আদেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এবং হল প্রভোস্ট শামসুল আলমকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।