আহসান হাবীব রানা, ইবি।।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম আলী হাসানের আর্থিক লেনদেনের কথোপকথনের চারটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ঘটনায় উপাচার্য বরাবর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছে কর্মকর্তা সমিতি। বুধবার (১৫ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এ.টি.এম এমদাদুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ হাসান মুকুট এ আবেদন করেন।
এসময় আবেদনে তারা উল্লেখ করে বলেন, রেজিস্ট্রার (ভারঃ) জনাব এইচ. এম আলী হাসান ইতিপূর্বে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক (ভারঃ) থাকাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের নিকট থেকে অর্থ গ্রহণ করেছেন যা বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, সাংবাদিকগণ কর্মকর্তা সমিতিকে অবহিত করেছেন। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের মতো সম্মানিত পদকে কলঙ্কিত করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদারও হানি হয়েছে বলে আমরা কর্মকর্তা সমিতি মনে করি।
তারা আরো উল্লেখ করেন, উক্ত অডিও ক্লিপটির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য হিসাবে জাতীয়ভাবে আমরাও অসম্মানিত বোধ করছি। বিধায় বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জরুরী ভিত্তিতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত না। দেখি এ বিষয়ে দেখি কি করা যায়।
এ ঘটনায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য যে, এর আগে সম্প্রতি কয়েকদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামের কন্ঠ সদৃশ একাধিক অডিও ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এছাড়াও এসকল ঘটনায় জড়িত নেপথ্যের মানুষদের খুঁজতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডাইরেক্টর অব প্লানিং (পিডি) ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান ও মঈন নামে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির (সম্ভাব্য ঠিকাদার) কণ্ঠ সাদৃশ অডিও কথোপকথন সাথী খাতুন নামে একটি থেকে আপলোড করা হয়। এবং এরপর অডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এসময় লেনদেন সংক্রান্ত একই অডিওতে পর পর চারটি ভিন্ন ভিন্ন সময়ের কথোপকথন শোনা যায়।