কামরাঙ্গীরচরে গৃহবধু হত্যার ২৪ ঘণ্টায় ঘাতক স্বামী সোহেল আটক
Date: 2023-08-18
আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানাধীন কোম্পানীঘাট জামাল
দেওয়ানের গলি এলাকায় স্ত্রী মেহেরুন নেছা মীমকে (১৮) নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘটনাস্থল
থেকে পালিয়ে যাওয়া ঘাতক স্বামী সোহেল মিয়াকে (২৮) ২৪ ঘন্টার মধ্যে আটক করেছে র্যাপিড
এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০। ১৬ আগস্ট (বুধবার) আনুমানিক বেলা সোয়া ১১ টার দিকে
সোহেল মিয়াকে গাজীপুর জেলার সদর থানাধীন সালনা ইপসা উত্তর মোল্লাপাড়া এলাকা থেকে আটক
করা হয়েছে বলে বার্তা বিচিত্রাকে নিশ্চিত করেছেন লালবাগ ক্যাম্পের কোম্পনী কমান্ডার
মো. সাইফুর রহমান।
এর
আগে ১৫ আগষ্ট (মঙ্গলবার) ভিকটিম মেহেরুন নেছা মীমকে তার স্বামী সোহেল মিয়া কৌশলে বাথরুমে
নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনা ঘটায়। সোহেল মিয়া শেরপুর জেলার নলিতাবাড়ি থানাধীন
পাঁচগাঁও, ঘোগড়াকান্দি এলাকার দোলাল মিয়ার ছেলে। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে
উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে তার সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা যায়।
সূত্রে
জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামী সোহেল মিয়ার সাথে ভিকটিম মীমের ৩ বছর পূর্বে বিয়ে হয়।
তাদের সংসারে ২ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। সোহেল ও মীম উভয়ই স্থানীয় একটি মেটাডোর
পিন-পয়েন্ট কলম ফ্যাক্টরীতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। সোহেল প্রায়ই মীমকে পরপুরুষের
সাথে ফোনে কথা বলত বলে সন্দেহ করতো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। যার ফলে
সোহেল প্রায়ই ভিকটিম মীমকে মারধর করতো। সোহেলের নির্যাতনের কারণে মীম ইতোপূর্বে শেরপুর
আদালতে সোহেলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে। অতঃপর
মীম তার স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে হত্যার ২ মাস পূর্বে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে তার নানির
বাড়ি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানাধীন জামাল দেওয়ানের গলি এলাকার একটি ভাড়া করা বাসায়
চলে আসে এবং সেখানে মীম তার মা ও নানীর সাথে বসবাস করতে থাকে।
হত্যাকান্ডের
১০/১২ দিন পূর্বে সোহেল পূর্বপরিকল্পিতভাবে মীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে মীমের নানির বাসায়
আসে এবং সে মীমকে আর কখনও কোনো প্রকার নির্যাতন করবেনা বলে মীম ও তার পরিবারকে কথা
দিয়ে নানির বাসায় বসবাস করতে থাকে সেইসাথে মীমকে হত্যার সুযোগ খুঁজতে থাকে। পরবর্তীতে
গত ১৫ আগষ্ট দুপুর আনুমানিক সোয়া ১ টার দিকে সোহেল বাথরুমে গিয়ে ভিকটিম মীমকে ডেকে
বলে যে, তার কোমরের পিছনে গুপ্ত স্থানে একটি বিষফোঁড়া উঠেছে, এই বলে কৌশলে মীমকে বাথরুমে
নিয়ে গিয়ে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক নৃশংস পাশবিকভাবে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত
করে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে ভিকটিম মীমের পরিবারের লোকজন মীমকে তাদের
বাথরুম হতে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত
চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। উক্ত ঘটনার পর ভিকটিম মীমের মামা মো. কামাল (৪৮)
বাদী হয়ে ভিকটিম মীমের স্বামী সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি হত্যা
মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ২৯, তারিখ- ১৫/০৮/২০২৩ খ্রিঃ, ধারা- ৩০২ দন্ডবিধি।
এ
বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রচারে এলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের
সৃষ্টি করে। হত্যাকান্ডের বিষয়টি জানতে পেরে র্যাব বর্ণিত ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে
এবং আসামীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায়
গোয়েন্দা তথ্যে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গাজীপুরে
বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঘাতক স্বামী সোহেল মিয়াকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার
করতে সক্ষম হয়। এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের
কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়।