সাইফুল আজম খান মামুনঃ
সাতক্ষীরা আশাশুনি থানার এসআই আলমগীর কবিরের বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, এসআই আলমগীর কবির আশাশুনি থানায় যোগদান করার পর থেকে জড়িয়ে পড়েন ঘুষ বানিজ্যে। মামলা রেকর্ড করার কথা বলে, ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা। থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করলে তদন্তে যেয়ে এসআই আলমগীর কবির ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা। এছাড়া মামলায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামিদের আটক না করার শর্তে তাদের নিকট থেকেও হাতিয়ে নিয়েছে টাকা।
অভিযোগ আছে, এসআই আলমগীর কবির ঘুষ ছাড়া কিছুই বোঝেনা। ঘুষ বানিজ্য যেন এসআই আলমগীরের নৈমিত্তিক ব্যাপার। ঘুষ দিলেই পক্ষে কাজ করেন এসআই আলমগীর কবির। আর ঘুষ না দিলে প্রতিপক্ষের নিকট থেকে টাকা নিয়ে তার পক্ষে কাজ করেন এসআই আলমগীর। এসব অপরাধ আর অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে চাইলে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি প্রদান করে থাকেন এস, আই আলমগীর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসআই আলমগীর আশাশুনি থানায় ১২ ফেব্রুয়ারী ২৫ তারিখ যোগদান করেন। এসআই আলমগীরের জঘন্য কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ এখন রীতিমতো ক্ষুব্ধ।
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা হেলালুজ্জামান বলেন: অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আশাশুনি থানায় গেলে এসআই আলমগীর কবিরের সাথে আমার দেখা হয়। মামলা রেকর্ড করে দেবে বলে সে আমার নিকট থেকে ৯ হাজার টাকা নেয়। এরপর এসআই আলমগীর মামলা রেকর্ড করার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না করে প্রায় ১৫ দিন যাবত তাল-বাহানা শুরু করেন। একপর্যায় আশাশুনি থানার ওসিকে বলে আমার মামলা রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় চাপ দিয়ে আমার দেওয়া ৯ হাজার টাকা এসআই আলমগীর ফেরত দিতে বাধ্য হয়।
ভুক্তভোগী হেলালুজ্জামান জানান, এসআই আলমগীর এর কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়ায় আমাকে মিথ্যা বানোয়াট মামলায় ফাঁসাবে বলে বিভিন্ন লোক মুখে জানতে পারছি। ভুক্তভোগী হেলালুজ্জামান ঘুষখোর এসআই আলমগীরের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
একই উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের বাসিন্দা মাগফুর রহমান (বুলু) জানান, দুষ্কৃতিকারীরা আমার মৎস্য ঘের অবৈধভাবে জোরপূর্বক দখলে নেয়। এসময় কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে চলতি বছরের ১৭ মার্চ আমি আশাশুনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রেকর্ড করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসআই আলমগীর কবির আমার নিকট থেকে ২১ হাজার টাকা নেয়।
একপর্যায় মামলা রেকর্ড না হওয়ায় আমি এস,আই আলমগীরকে বললে সে নানাভাবে তালবাহানা শুরু করে। বিষয়টি বিভিন্ন মহলে জানাজানি হওয়ার পর আমার দেওয়া ২১ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এসআই আলমগীর কবির। ভুক্তভোগী জানান, এসআই আলমগীর আমার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললেও আদোও সে টাকা ফেরত দেয়নি। প্রায়শই আজকাল করিয়া কাল ক্ষেপণ করছে এসআই আলমগীর কবির। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মাগফুর রহমান (বুলু) সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সুশীল সমাজের মতে, একজন পুলিশের কর্মকর্তা রক্ষক হয়ে যখন ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে তখন সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গায় ফাটল ধরে। কিছু সংখ্যক পুলিশের এসব অপকর্মের কারণে সাধারণ মানুষ পুলিশকে বন্ধু ভাবার পরিবর্তে কখনো কখনো শত্রু ভেবে বসে। দ্রুত পুলিশের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পুলিশের উপর থেকে অচিরেই সাধারণ মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাস উঠে যাওয়ার উপক্রম ঘটবে।
এবিষয়ে এসআই আলমগীর কবিরের ব্যবহারিত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুল আরেফিন জানান ভুক্তভোগী আমার সাথে যোগাযোগ করলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তাছাড়া ঘটনা যেহেতু মার্চ মাসে তখন আমি আশাশুনি থানায় যোগাযোগ করিনি।