নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাজধানীর অন্যতম আবাসিক প্রকল্প ইস্টার্ন হাউজিং–এ ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়েছে। প্রকল্পটির অভ্যন্তরে জমি বিক্রির নামে বছরের পর বছর ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে চলছে ভয়ঙ্কর লুটপাট। আর এই দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) সিদ্দিক ও ডিজিএম ফারুক।
সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সেক্টর-৪ এলাকায় নির্ধারিত অফিসিয়াল মূল্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা জমি বিক্রি করছেন দ্বিগুণ দামে। প্রতি কাঠার সর্বোচ্চ রেট যেখানে ৮০ থেকে ৮৫ লাখ টাকার মধ্যে নির্ধারিত থাকার কথা, সেখানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি থেকে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকায়। ঘুষ, কমিশন আর সিন্ডিকেটের লোভের আগুনে পুড়ে ছাই হচ্ছে সাধারন মানুষের স্বপ্নের বাড়ির পরিকল্পনা।
বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র বলছে, ডিএমডি সিদ্দিক এবং ডিজিএম ফারুক নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট বরাদ্দ থেকে শুরু করে হস্তান্তরের প্রতিটি ধাপে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। ‘অফ দ্য রেকর্ড’ অর্থাৎ কালো চ্যানেলে তারা প্রতি প্লটে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। একটি গোপন অডিও রেকর্ডিং-এ ফারুককে এক ক্রেতার কাছ থেকে বেশি দাম দাবি করতে শোনা গেছে, যেখানে স্পষ্টতই প্রমাণ হয়, এটি একটি সংগঠিত অপরাধচক্র।
তদন্তে আরও জানা যায়, প্রকল্পের ভেতরে একাধিক প্লট এমন ব্যক্তিদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যাদের কোনো আবেদনপত্র পর্যন্ত ছিল না। পক্ষান্তরে প্রকৃত আবেদনকারীরা বছরের পর বছর অপেক্ষায় থেকেও কোনো বরাদ্দ পাননি। অভিযোগ রয়েছে, যারা সিদ্দিক ও ফারুকের ঘনিষ্ঠ নন বা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তাদের আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।
এই দুর্নীতির ফলে, একদিকে যেমন রাষ্ট্র হারাচ্ছে রাজস্ব, অন্যদিকে সাধারন জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে ভূ-প্রতিষ্ঠানিক জুলুমের নিষ্ঠুরতা।
প্রশ্ন উঠেছে, ইস্টার্ন হাউজিং কর্তৃপক্ষ কেন ডিএমডি সিদ্দিক ও ডিজিএম ফারুকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না? তারা কি সিন্ডিকেটের অংশীদার, না কি নীরব প্রশ্রয়দাতা?
একাধিক বাসিন্দা বার্তা বিচিত্রাকে জানায়, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্ত এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, ইস্টার্ন হাউজিং প্রকল্পটি একটি ‘দুর্নীতির দুর্গে’ পরিণত হবে, যার দায়ভার বহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে আসছে পরবর্তী পর্বে...