ক্ষুদে মেসির দেখা মিললো চাঁদপুরে!

Date: 2025-08-07
news-banner

বয়স মাত্র ৫ বছর। এ ছোট বয়সেই রপ্ত করেছে ফুটবলের নানা কৌশল। তার নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিংয়ে মুগ্ধ হয়ে ইতোমধ্যে এলাকাবাসী নাম দিয়েছে ‘ক্ষুদে মেসি’। সে অনুপ্রেরণা নিয়ে চাঁদপুরে শিশু সোহানও বড় হয়ে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির মতো ফুটবলার হতে চায়। ইতোমধ্যে তার খোঁজ নিয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


বয়স মাত্র ৫, ছোট্ট এই বয়সের সোহানের ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ দেখে রীতিমত বিস্মিত এলাকাবাসী। ফুটবলে তার দক্ষতা ও শৈলী ইতোমধ্যে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে চোখ পড়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। শিশুটির খোঁজ খবর নিতে তারেক রহমানের নির্দেশে ছুটে যান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আনোয়ার হোসেন।

 
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুরে মতলব উত্তর উপজেলার সাড়ে পাঁচআনি গ্রামে শিশু সোহান ও তার বাবা মায়ের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন তারা। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন, মতলব উত্তর উপজেলার ক্রীড়া সংগঠক সামছুজ্জামান ডলার।
 
তিনি বলেন, ‘ক্ষুদে ফুটবলার সোহানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং তার জন্য কী কী সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়েও শিশুটির বাবা ও মায়ের সঙ্গে কথা বলেন তারা।’
 
সাড়ে পাঁচআনি গ্রামের সাইকেল মেকানিক সোহেল প্রধানিয়া আর গৃহবধূ রেহানা বেগমের দুই সন্তানের মধ্যে ছোট সন্তান সোহান। এলাকার হাজী ইয়াসিন আলী কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহান।
 
তার বাবাই তার প্রশিক্ষক। সোহানের মা রেহানা বেগম জানান, শত কষ্টের মধ্যেও ছেলেকে ফুটবলের নায়ক বানাতে চান তার স্বামী। তাই প্রতিদিন ভোর হলেই  বাড়ির উঠান কিংবা পাশের সড়কে ছেলেকে নিয়ে ছুটেন সোহেল প্রধানিয়া। তার লক্ষ্য একটাই। আর্জেন্টিনার মেসির মতো ফুটবলার হিসেবে গড়ে তুলবেন ছেলে সোহানকে।
 
 
সোহেল প্রধানিয়া বলেন, ‘আমার নিজের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে ফুটবল খেলা। অথচ আমি নিজেও এই খেলার কিছুই জানি না। তবে টেলিভিশন আর ইউটিউব দেখে ছেলেকে ফুটবল শেখাচ্ছি।’ এরইমধ্যে অনেকটা সফল বলেও দাবি করেন সোহেল প্রধানিয়া।
 
শিশু ফুটবলার সোহান বলে, ‘এলাকার সবাই আমাকে ক্ষুদে মেসি নামে ডাকে। এতে খুব ভালো লাগে।’ এসময় একগাল হাসি ফুটে ওঠে তার মুখে।
 
সোহেল প্রধানিয়ার প্রতিবেশী আলমগীর সরকার বলেন, ‘গ্রামের আমাদের ছোট্ট সোহান ফুটবলের ইতিহাস তৈরি করে একদিন বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়বে।’
 
মতলব উত্তর উপজেলার ক্রীড়া সংগঠক সামছুজ্জামান ডলার বলেন, ‘ক্ষুদে ফুটবলার সোহানের ফুটবলের প্রতিভা ধরে রাখতে হলে বিকেএসপির মতো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসতে হবে। না হয়, পরিচর্যার অভাবে তার এই প্রতিভা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।’
 
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ছোট্ট শিশু সোহানের ফুটবল নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কাবু করে গোলপোস্টের দিকে এগিয়ে যাওয়া, তার সেই ক্রীড়া শৈলী সত্যি বিস্মিত হওয়ার মতো। অথচ লিকলিকে শরীর। খাবারের প্রতিও তেমন আগ্রহ নেই। শুধু ফুটবল আর ফুটবল।
 
 
স্বপ্ন পূরণে ফুটবলই হচ্ছে নিত্য সঙ্গী। তবে দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা সোহানের প্রতিভা বিকাশে পাশে দরকার সরকারকে। কারণ, বাবা সোহেল প্রধানিয়ার সাইকেল মেরামতের আয় দিয়েই চলে তাদের সংসার। তাছাড়া দোচালা টিনের বসতঘরটিও অনেকটা নড়বড়ে। দারিদ্রতা যেন তার পরিবারের নিত্য সঙ্গী। তবে এসব কিছু ফেলে ফুটবল খেলে শুধু পরিবার নয়, বাংলাদেশকে নতুনভাবে তুলে ধরতে এখনই প্রস্তুত করতে হবে শিশু সোহানকে। এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
 
প্রসঙ্গত, চলতি সপ্তাহে শিশু সোহানকে নিয়ে সময় টেলিভিশন একটি প্রতিবেদন প্রচার করে।

Leave Your Comments