নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় জমি সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে উপজেলা ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার আরিফের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ভুয়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল সহ বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপকর্মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বিত্তবৈভবের মালিক বনে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে ।
বেলাব এম মামলা নং৩৯৩/২০২১ ভুক্ত আদালতের ৬১৩ নং স্মারকাদেশ তামিল করতে গত ২০২৩ সালের ৭ মে তারিখে বিবাদী পক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করেন সার্ভেয়ার আরিফ হোসেন। পরে সরেজমিনে গিয়ে ভুমির স্ক্যাচ ম্যাপসহ বাদীর দখলীয় জায়গায় বসেই সেখানে বাদীর কোনো দখল নেই বলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে যেখানে বসে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়েছেন সেখানের সিসি টিভি ফুটেজে যে তার প্রতিবেদন কার্যক্রম ধারণ করা হচ্ছে তিনি তা ঘুনাক্ষরে ও টের পাননি।
তার দেওয়া সেই ভুয়া তদন্ত প্রতিবেদন এখন তার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মামলার বাদী ও স্থানীয়রা জানান, বেলাব উপজেলার বাজনাব ইউনিয়নের বাজনাব-চন্দনপুর পাকা রাস্তার উত্তর পাশে অবস্থিত, চন্দনপুর মৌজাস্থিত আরএস-১৬৮ নং দাগে ১ আনায় ২.০৯ একরের কাত ১.৩৪৫০ একর নালিশীভুক্ত জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বাদী আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে উপজেলা ভুমি সার্ভেয়ার আরিফ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং গত ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টম্বর তারিখে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে তিনি বাদীর দখলীয় বসত ঘরের সামনে বসে সেখানে বাদীর দখল পাওয়া যায়নি উল্লেখ পূর্বক সেখানে বিবাদী পক্ষের বাঁশঝাড় ও বিভিন্ন ধরনের ফজল গাছগাছালি থাকার পাশাপাশি বিবাদী পক্ষের দখল রয়েছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন । অথচ বাস্তবে সার্ভেয়ার নিজেই ওই দখলীয় জমিতে বসে থেকে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। ফলে এ ভুয়া তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বাদীর পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিবাদী পক্ষ থেকে ঘুষ গ্রহন করে একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন মামলার সঠিক পথে বিরুপ প্রভাব ফেলে প্রকৃত মালিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
তাই এ বিষয়ে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি বেলাব উপজেলা ভুমি অফিসের কলঙ্ক ঘুষখোর আরিফকে চাকুরিচ্যুত করা সহ তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
এব্যাপারে বেলাব উপজেলা ভুমি সার্ভেয়ার আরিফ কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে অনাপত্তি দেওয়ার কথা বলেন। প্রতিত্তোরে প্রতিবেদক অনাপত্তির বিষয়টি তিনি জানেন। তখন তার কাছে মিথ্যা ও ভূয়া প্রতিবেদন দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কোন কথা বলেননি।
বিষয়টি বেলাব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদারে নজরে আনলে তিনিও অনাপত্তি দেওয়ার কথা বলেন। মিথ্যা ও ভূয়া প্রতিবেদনের জন্য ওই সার্ভেয়ারের কোন শাস্তি হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।