সিরাজদিখান প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নে অবস্থিত আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা আহসান হাবিবকে মনোনীত করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। গত ৭ আগষ্ট তাকে সভাপতি করে ৪ সদস্যের একটি এডহক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। আহসান হাবিব আওয়ামী লীগ সরকারের মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সাংসদ ও সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ ও তার পুত্র কেন্দ্রীয় যুবলীগের অন্যতম সদস্য আনিসুর রহমান রিয়াদের আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ট ছিলেন। সেই সূত্রে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন।
২০২৪ সালের জুলাই আগষ্টে ছাত্র জণতার আন্দোলনে আসনটির সাবেক সাংসদ ও তার ছেলের সাথে ছাত্র জনতার আন্দোলনে দমনপীড়নে জড়িত ছিলেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ৫ আগষ্টের আগে তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা সমাবেশে সরাসরি জোগদান করেন। তার এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোষ্ট করে একাধিক আইডি থেকে তাকে আওয়ামী দোষর হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন অনেকে। সেই সাথে আওয়ামী লীগ নেতা তথা আওয়ামী দোষর হওয়ার পরও কি করে সে একটি বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মনোনীত হলেন তিনি? এ নিয়েও প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ!
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি পদে ৩ জনের নাম প্রস্তাব করেছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম সর্দার। এর মধ্যে একজন হলেন আহসান হাবিব। অপর দুইজন হলেন, হোসেন আলী ও রকিবুল হাসান। প্রস্তাবিত তিন জনের মধ্য থেকে বোর্ড থেকে আহসান হাবিবকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়।
এ প্রসঙ্গে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম সর্দার মুঠোফোনে বলেন, সভাপতি পদে তিন জনের নাম প্রস্তাব করা হয়। আহসান হাবিব আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন এবং তিনি মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সাংসদ ও তার ছেলের আস্থাভাজন ছিলেন? এমন প্রশ্নের জবাব তিনি কোন সদুত্তর দিতে না পেরে তার সাথে প্রতিবেদককে স্বাক্ষাৎ করতে বলেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে আহসান হাবিব মুঠোফোনে বলেন,আমি যেহেতু চাকরি করি সেহেতু বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকের সাথে আমাকে যেতে হয়। আমি সুনির্দিষ্ট কোন দলের সাথে কোন সম্পৃক্ত নই! আমি শ্রীনগরে একটি কলেজে চাকরি করি। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এখানকার স্থানীয় তাই এ স্কুলের সভাপতি হয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন নাহার মুঠোফোন বলেন, আমার কাছে এটা যাচাই বাছাইের জন্য আসে নাই। মূলত প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক/প্রিন্সিপালরা সরাসরি ডিসি সাহেবের কাছে আবেদন করেন। ডিসি সাহেব যাচাই বাছাইয়ের জন্য চাইলে পাঠাতে পারেন আবার নাও পাঠাতে পারেন। এটা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে আমার মনে পরে না।