সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল হারুনের নিঃসঙ্গ মৃত্যু: রফিকুল আমীনের মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন

Date: 2025-08-10
news-banner

ভূমিকা:
সাবেক সেনাপ্রধান ও ডেসটিনি গ্রুপের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) এম হারুন-অর-রশিদ, বীর প্রতীকের নিঃসঙ্গ ও করুণ মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। যার জন্য তিনি জীবনের শেষ দিনগুলোতেও আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন, সেই ডেসটিনির কর্ণধার রফিকুল আমীনের পাশেই তার এমন নিঃসঙ্গ বিদায় ৪৫ লক্ষ বিনিয়োগকারীর মনে গভীর ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ:
গত ৪ঠা আগস্ট, ডেসটিনির একটি প্রতারণা মামলার হাজিরা দিতে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার রফিকুল আমীন ও তার সহযোগী মোহাম্মদ হোসাইনের সাথে চট্টগ্রামে যান জেনারেল হারুন। সেখানে একটি গেস্ট হাউসের ৩০৮ নম্বর কক্ষে তিনি একা অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অভিযোগ উঠেছে যে, যার জন্য তিনি চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন, সেই রফিকুল আমীন ও তার সহযোগীরা জেনারেল হারুনের মৃত্যুর পর তাঁর দাফন-কাফন বা জানাজায় অংশ না নিয়েই দ্রুত একটি ফিরতি ফ্লাইটে ঢাকায় চলে আসেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনাপ্রধানের প্রতি এই চরম অমানবিকতা ও স্বার্থপরতা wieluকে হতবাক করেছে।

এক বীরের আত্মত্যাগ:
জেনারেল হারুন-অর-রশিদ ২০০৬ সালে ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দেন। তিনি শুধু একজন বেতনভুক্ত কর্মকর্তা ছিলেন না, প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের করে নিয়েছিলেন। ডেসটিনি যখন মামলায় জর্জরিত, তখন তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে সেক্টর কমান্ডার ফোরামের মতো সম্মানজনক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করেছিলেন। জামিনে মুক্ত হয়েও তিনি আমৃত্যু এই প্রতিষ্ঠানকে পুনরুজ্জীবিত করার লড়াই চালিয়ে গেছেন। এমনকি, ডেসটিনির পুনরুত্থানের বর্তমান আইনি লড়াইয়ের ভিত্তিও জেনারেল হারুনের করা আবেদনেরই ফসল।

বিনিয়োগকারীদের জন্য অশনি সংকেত?
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, যে মানুষটি নিজের স্বার্থে এমন একজন বীর ও জাতীয় ব্যক্তিত্বকে ব্যবহার করে শেষ মুহূর্তে তাঁর প্রতি ন্যূনতম মানবিকতাটুকুও প্রদর্শন করতে পারলেন না, তার ওপর লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারী কীভাবে আস্থা রাখবেন?

যে জেনারেল হারুনের আগমনে ডেসটিনি পরিবারের ৪৫ লক্ষ মানুষ গর্ব করত, সেই মহান মানুষটি হয়তো শেষ সময়ে এসে বুঝতে পেরেছিলেন, রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসাইনের কাছে স্বার্থের বাইরে তার কোনো গুরুত্বই ছিল না।

ডেসটিনির সাধারণ বিনিয়োগকারী ও পরিবেশকদের জন্য এটি একটি বড় চিন্তার বিষয়। যে নেতৃত্বের কাছে জেনারেল হারুনের মতো একজন ব্যক্তিত্বের এমন করুণ পরিণতি হয়, সেই নেতৃত্বের কাছে ৪৫ লক্ষ সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ও বিনিয়োগ কতটা নিরাপদ—সে প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

Leave Your Comments