সাইফুল আজম খান মামুনঃ
সাতক্ষীরা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট জাহিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মোটরসাইকেল সহ অন্যান্য যানবাহনের কাগজ দেখার নামে মামলার ভয় দেখিয়ে ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্টরা হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। ব্যস্ততম শহরে যানজট নিরসনের পরিবর্তে ট্রাফিক পুলিশ চাঁদাবাজি করায় বেড়েছে যানজট ও জনদুর্ভোগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রাইভেটকার, ট্রাক, মাইক্রোবাস, সিএনজি, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল সহ অন্যান্য যানবাহন কারণে- অকারণে গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র চেক সহ নানা অজুহাতে মানুষকে হয়রানি করছে। এছাড়া ঘন্টার পর ঘন্টা অনেক গাড়ি আটক রাখার কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলার গুরুত্বপূর্ণ অনেক পয়েন্টের মধ্যে ২/১ টি জায়গায় কনস্টেবলদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলেও বেশিরভাগ সার্জেন্টরা বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পৃথক পৃথক টিমে চাঁদা আদায় করে থাকেন।
গাড়ির কাগজ দেখা নয়, চাঁদাবাজি করায় যেন ট্রাফিক পুলিশের মূল টার্গেট বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইজিবাইক চালক বলেন: ইজিবাইক চালক সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারির মাধ্যমে আমরা মাসিক মাসোহারা দেয় সাতক্ষীরা ট্রাফিক পুলিশকে দেওয়ার জন্য। তারা বলেন: মাসিক মাসোহারা না দিলে ট্রাফিক পুলিশ আমাদের গাড়ি আটকে দেয়। সংসার চালানোর তাগিদে কোন ঝামেলা না পোহাতে ট্রাফিক পুলিশকে আমরা চাঁদা দিয়ে থাকি।
সম্প্রতি সাতক্ষীরা সদরের লাবসা জিরো পয়েন্ট মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট এক মোটরসাইকেল চালকের গাড়ি আটকে দেয়। এসময় তার গাড়ির কাগজপত্র কাছে না থাকায় তার নিকট সার্জেন্ট ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের টাকা তাৎক্ষণিকভাবে দিতে না পারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নাইম হোসেন। নাইম হোসেন অভিযোগ করে বলেন: সাতক্ষীরা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট ইন্সপেক্টর (টিএসআই) মোঃ জাহিদ শেখ আমার মোটরসাইকেল থামিয়ে কাগজপত্র দেখতে চায়। এসময় গাড়ির কাগজ দেখাতে না পারায় ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট ইন্সপেক্টর (টিএসআই) মোঃ জাহিদ শেখ আমার নিকট ৩১০০ টাকা দাবি করেন।
সার্জেন্ট জাহিদ শেখ ভুক্তভোগীকে বলেন: তোমার তো অনেক টাকা জরিমানা হবে এটা এখন দিলে ছেড়ে দিবো। এদিকে দাবিকৃত টাকা চালকের নিকট তাৎক্ষণিক না থাকায় ট্রাফিক পুলিশ ইমরান তাকে নিজ পকেট থেকে ২০ টাকা ভ্যান ভাড়া দিয়ে বলে যে, তুমি বিকাশের মাধ্যমে দ্রুত টাকাটা নিয়ে আসো আমি স্যারকে বলে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। ভুক্তভোগী বলেন: দাবিকৃত চাঁদার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে না দেওয়ায় আমার বৈধ মটর সাইকেলের বিরুদ্ধে ০৪ টি মামলা দেন।
ভুক্তভোগী জানান, সার্জেন্ট জাহিদ শেখ কে টাকা না দেওয়ায় ৮ হাজার টাকার মামলা দিয়েছে। শুক্রবার ১৫ আগস্ট সাতক্ষীরা সদরের বাইপাস জিরো পয়েন্টে মোটরযানের উপর অভিযান পরিচালনা কালে ওই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নাইম হোসেন সাতক্ষীরা সদরের ঘরচালা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। খোজ নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট ইন্সপেক্টর মোঃ জাহিদ শেখ এর বিপি নং-৭৮৯৮০১৭০৩৫। আলিপুর এলাকার আঃ রাজ্জাক ও রাজু অভিযোগ করে বলেন, তাদের মোটরসাইকেল এর বৈধ কাগজপত্র থাকলেও ৮ হাজার টাকা করে মামলা দেন জাহিদ শেখ। তাদের অপরাধ একটাই সার্জেন্ট জাহিদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করা।
সদর উপজেলার আঁকড়াখোলা এলাকার জলিলের ছেলে নসিমনচালক ইমন বলেন, সকালে চাঁদা দিলে আমরা বিকাল পর্যন্ত চলতে পারি আর বিকালে চাঁদা দিলে রাত পর্যন্ত চলতে পারি। নগদ চাঁদা না দিলে গাড়ি আটক করার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ বিষয় ট্রাফিক সার্জেন্ট ইন্সপেক্টর মোঃ জাহিদ শেখ বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে রাস্তায় চলাচলকারী সব অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সাথে একাধিক বার মুঠোফোনে কল দিয়ে আলাপের চেষ্টা কালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।