নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রা-এর লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পর অবশেষে বদলি করা হলো সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানকে। তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায় এবং নামে-বেনামে একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট অর্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই শেষে তাকে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রা–এর নিয়মিত সংখ্যায় “সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিস যেন ঘুষের স্বর্গরাজ্য: তহসিলদার হাবিবুরের নামে-বেনামে কোটি টাকার সম্পদ (পর্ব ১)” শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশের পর সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর একাধিক ভুক্তভোগী বার্তা বিচিত্রার সাথে যোগাযোগ করে গুরুতর তথ্য প্রদান করেন। ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে তহসিলদার মোঃ হাবিবুর রহমান নাগরিক সেবার নামে প্রকাশ্যে ঘুষ আদায় করছিলেন। অনুসন্ধানে উঠে আসে যে, তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় তিনটি বাড়ির মালিক, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা। এছাড়া তার নামে ৩টি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৪ কোটি টাকা। তার নামে বেনামে একাধিক প্লট থাকতে পারে, যার বিষয় অনুসন্ধান চলমান। সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে নামজারি, জমাভাগ, খাজনা আদায়, পর্চা ইত্যাদি প্রতিটি কাজে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে তিনি নিয়মে পরিণত করেছিলেন, যা সরাসরি চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার। সুস্পষ্টভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির লঙ্ঘন।
এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রা-এর পক্ষে বার্তা সম্পাদক সবুর খান আইনজীবী মাধ্যমে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে। নোটিশে বলা হয়েছিল, নোটিশ প্রাপ্তির ০৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে লিখিতভাবে বার্তা বিচিত্রারে জানাতে হবে। তদন্ত চলাকালীন তাকে বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহার করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। তার অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, বার্তা বিচিত্রা বাধ্য হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অভিযুক্ত করে দুদক, মন্ত্রণালয় এবং উচ্চ আদালতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে। নোটিশে আরও জানানো হয় যে, এতে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে এর সমস্ত দায়ভার প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।
হাবিবুর রহমানের বদলির খবরে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এই পদক্ষেপের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অত্যাচারে তারা অতিষ্ঠ ছিলেন। একই সঙ্গে, তারা ভবিষ্যতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কার্যক্রম কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সমাজের সচেতন মহল মনে করে, এই বদলির ঘটনা প্রমাণ করে যে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তারা বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং দেশ দুর্নীতিমুক্ত হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।