বিশেষ প্রতিবেদক
বনানীর বিভিন্ন রোডে অন্তত অর্ধডজন ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সুলতানা, জারা, ইভা সুন্দরীরা খুলে বসেছে রমরমা মধুকুঞ্জ। বছরের পর বছর ধরে স্পার অন্তরালে তাদের অসামাজিক কার্যকলাপের মধুকুঞ্জে পরিনত হওয়া মিনি পতিতালয়গুলোতে পুলিশের অভিযান নেই বললেই চলে।
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবকিছু জেনেও না জানার ভান ধরে যথাযথ দায়িত্ব পালনে উদাসিন থাকে বলেও বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।
এক শ্রেণির ভবন মালিকও অতিরিক্ত ভাড়া হাতানোর লোভে স্পা সেন্টারগুলোকে তাদের ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে থাকেন। কালেভদ্রে পুলিশি অভিযানের ঝক্কি ঝামেলা সৃষ্টি হলে তারা কোনো কিছু না জানার ভান ধরেন। গত কয়েকদিন সরেজমিন অনুসন্ধানকালে জানা যায়, গুলশান-বনানীর প্রায় প্রতিটি সড়কে তারা একটা ট্রেড লাইসেন্স আর বাড়ী ভাড়া নিয়ে বিউটি পার্লার অথবা হেয়ার কাটিং সেলুন অথবা স্পা সেন্টার খুলে নির্বিঘ্নে মাদক বিক্রি ও দেহপসারিনির পতিতা বৃত্তি করছে।
দেহ ব্যবসা ফাদে ফে?লে মানুষকে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে গুলশান ২ নম্বর সার্কেলের ৪৪ নং সড়কে ৬/বি নং বাড়ির ৫ তলায় হাসি আক্তারের অ্যারোমা থাই স্পা, গুলশান ২ রোড নং ৯৯,হাউজ ৩৩/এ লিফটের ৬ রয়েছে বাহার স্পা। গুলশান ২ হাউজ নং ২৫ রোড নং ৪৭ রয়েছে শাহিনুর আক্তার পায়েলের স্পা সেন্টার, গুলশান ২, হাউজ নাং ৩৩, রোড নং ৪৫ রত্নার স্পা সেন্টার। গুলশান সার্কেল ১ এ ৮ নং সড়কে ১/বি বাড়ীর সি/১ ফ্লাটে রয়েছে অরোরা স্পা সেন্টার, গুলশান-সার্কেল ২ এ ২নং সড়কের ৪নং বাড়ীতে রয়েছে অরোরা স্পার ২য় শাখার রমরমা বাণিজ্য দেখতে পাওয়া যায়। এ দুটি স্পা সেন্টারের তত্বাবধায়ক হিসেবে রয়েছেন ফজলু মিয়া নামের জনৈক ব্যক্তি।
এছাড়াও গুলশান-১ এর ১৩০ নং সড়কের ১১/এ বাড়ীর ৬ তলায় সুয়াই বিউটি কেয়ার স্পা এন্ড সেলুন পার্লার এর ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ইএনটি কেয়ার সেন্টার ও হেয়ারিং সেন্টার খুলে তারা যাবতীয় অনৈতিক কর্মকান্ড চালাচ্ছে। সেখানে রয়েছে অত্যাধুনিক সয়ংক্রিয় অটোমেটিক লক সিস্টেম, সু-সজ্জিত ১০টি ক্যামেরা, যেখানে রুপসী তরুণিরা অর্থের বিনিময়ে প্রতিনিয়ত খদ্দেরদের শয্যাসঙ্গী হয়ে থাকে। হাই সোসাইটির বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের জন্য খুলে বসা সুয়াই ও ইএনটি কেয়ার সেন্টার দেখভাল করে থাকেন মোঃ মামুনুর রশিদ সিদ্দিক এবং রাবেয়া আক্তার লাবনী।
এছাড়াও গুলশান ২ সার্কেলের ১০৪ নং রোডের ২৩/বি/১ নং বাসার বহুদামী একটি ফ্ল্যাট ভাড়ায় নিয়ে মাদক-নারীর রমরমা বাণিজ্য ফেঁদে বসেছে জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তি। নারী সংক্রান্ত বহু অপরাধের শিরোমনি জাকিরের ফ্ল্যাটে সবকিছুই ঘটে খোলামেলা ভাবে। থানা পুলিশের সঙ্গেও তার দহরম মহরম সম্পর্ক থাকায় তার মাদক, নারী ও প্রতারণামূলক কাজ কারবার বন্ধের নাকি কারো সাধ্য নেই।
চলে ব্ল্যাকমেইলিং
স্পা সেন্টার নামের অপরাধ আখড়াগুলোতে মাদক-নারীর অসামাজিক কার্যকলাপ ছাড়াও অবাধে চলে ব্ল্যাকমেইলিং। এসব প্রতিষ্ঠানে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে যারা ক্ষণিকের আনন্দ আয়েশ করতে যান তাদের অনেকে নানারকম প্রতারণার কবলেও পড়েন।
প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্পাই ক্যামেরার মাধ্যমে প্রত্যেক খদ্দেরের অবস্থানকালীন পুরো সময় ভিডিও করে রাখা হয়। এসব ভিডিওকে পুঁজি করে শুরু হয় ব্ল্যাকমেইলিং। স্পা সেন্টারের যেসব তরুণি স্বেচ্ছায় নানা অপকর্মে লিপ্ত হন তারাই এসব ভিডিওকে প্রমান হিসেবে দাঁড় করিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে থানা পুলিশের সহায়তায় ভূয়া মামলা রুজু করারও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়, তোলা হয় ধর্ষণের অভিযোগ।
এমন প্রতারণামূলক কান্ডে চরম বিপাকে পড়া ব্যক্তিটি চাহিদামাফিক টাকা দিয়ে মিট মিমাংসা করতেও বাধ্য হন।বনানীর রোড নং ১৭, হাউজ নং ২১, লিফটের ৯ম তলায় জামানের সুইট ড্রিম, লিফটের ৭ তলায় জাবেদের মেঘলায়, রোড নং ১৮, হাউজ- ৪৯ এ লাবনী আক্তার ইভার স্পা সেন্টারে এবং বনানীর এল ব্লকের ২ নং রোডের স্পা সেন্টারে অহরহ এ ধরনের প্রতারণা ঘটে থাকে বলে জানা গেছে।
কে এই দেবাশীষ?
গুলশান, বনানী ও নিকেতন আবাসিক এলাকায় গজিয়ে ওঠা স্পা, মাদক, মিনি পতিতালয়সমূহে নিয়মিত ইয়াবা ও আইস সরবরাহ দিয়ে থাকে দেবাশীষ সিং ওরফে ধ্রুব ওরফে দেবা নামের এক ডাকসাইটে মাদক ব্যবসায়ি। ভদ্রতার খোলসে বহুজাতিক একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও তার মূল বাণিজ্যই হচ্ছে মাদক ও নারী সরবরাহ।
নানা তরুণিদের মোটা আয়ের প্রলোভন দিয়ে সে নিকেতনের বিভিন্ন স্পা সেন্টারে নিয়ে যায় এবং তার আঙ্গুলী ইশারায় তারা মূলত সেখানে বন্দী হয়ে পড়ে। ইচ্ছা অনিচ্ছায় ওই দেবাশীষের নির্দেশে ওই তরুণিরা যেমন পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য হয় তেমনি বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বেড়ানোর নামে নিয়ে তাদেরকে মাদক আনা নেয়ার কাজে যুক্ত করিয়ে থাকে। তার বিরুদ্ধে টেকনাফ সীমান্তে নিয়ে বিভিন্ন তরুণি দেহপসারিণীদের মিয়ানমারে পাঠিয়ে তাদের বিনিময়ে হাজার হাজার পিস ইয়াবা আনারও অভিযোগ রয়েছে।
ওই মেয়েদের ভাগ্যে কি নির্মমতা ঘটে, তারা কেউ আর দেশে ফিরতে পারেন কি না- সে ব্যাপারে আর কিছুই জানা সম্ভব হয় না। দেবাশীষ সিং কখনো নিজেকে গোয়েন্দা কর্মকর্তা আবার কখনও মাদক অধিদপ্তরের গোয়েন্দা ইউনিটের ইনচার্জ বলেও পরিচয় দিয়ে থাকে। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের পল্লীতে বলে জানা গেছে। বিস্তারিত পরবর্তী সংখ্যায়।