ন্যাচারিভার নকল হারবাল পণ্য বিক্রয়ে অনলাইন প্রতারণার ফাঁদ

Date: 2025-10-29
news-banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: 
 
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন শপিং অ্যাপে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন, অল্প সময়ে রোগমুক্তির প্রতিশ্রুতি এসব প্রলোভনে ভোক্তারা ঝুঁকছেন তথাকথিত হারবাল বা ভেষজ পণ্যের দিকে। কিন্তু এসব পণ্যের বেশির ভাগই নকল, মানহীন এবং অনুমোদনবিহীন। ফলে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ‘ন্যাচারিভা’ নামে অনলাইন প্রতারণার আস্তানা।

অনুসন্ধানী টিম "ফাঁদসূত্র"  সম্প্রতি ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মোকলেস মাতবর রোডের ১৬/৭০ হোল্ডিং, তাকওয়া ভবন-৩ এর তৃতীয় তলায় অবস্থিত একটি ফ্ল্যাটে অনলাইন প্রতারণা চক্রের সন্ধান পায়। ফ্ল্যাটটিতে ঢুকে দেখা যায় সারি সারি কম্পিউটার ও তরুণ কর্মী। তারা অনলাইনে “ন্যাচারিভা” নামের পণ্যের প্রচারণা ও বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ভিতরের একটি রুম থেকে বেরিয়ে আসে জুব্বা পরা, টুপি ও দাড়িধারী এক ব্যক্তি পরিচয় দেন কামরুজ্জামান সুমন নামে। নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক দাবি করলেও তার কথাবার্তায় দ্বিধা ও আতংক লক্ষ্য করা যায়। কিছুক্ষণ পর শামিম নামের আরেক ব্যক্তি এসে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদ না করে একজন সনামধন্য সাংবাদিককে ফোন দেন এবং প্রতিনিধি টিমকে অবান্তর প্রশ্ন করেন “আপনারা কারা? কেন গিয়েছেন সেখানে? ওরা আমার নিজের লোক। এরপর বিষয়টি আড়াল করতে দুপুরের খাবারের আমন্ত্রণ জানান ঐ সাংবাদিক।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য “ন্যাচারিভা” নামে প্রচারিত প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে “সাজের কেয়ার” নামে। অর্থাৎ প্রকৃত প্রতিষ্ঠানের নাম গোপন রেখে তারা অনলাইনে ভুয়া ব্র্যান্ড তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ কামাই করছে। এখানকার মূল কারিগর কামরুজ্জামান সুমন নিজেই ফেসবুকে হাজির হয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সেজে লাইভ ও বিজ্ঞাপন প্রচার করেন।

তারা স্থানীয় বাজার থেকে কয়েক ধরনের ভেষজ সংগ্রহ করে কোনো কেমিস্ট বা অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ ছাড়াই নিজস্ব ফরমুলায় তৈরি করছে ‘হারবাল ওষুধ’। এসব পণ্য বোতল, কৌটা ও প্যাকেটে ভরে বাজারজাত করা হয় ন্যাচারিভা,ন্যাচারাল কেয়ার,গ্যাস কিউর,অ্যাজমা কিউর,অর্গানিক কিউর সহ ইত্যাদি নামে।

প্রচারিত পণ্যের তালিকায় রয়েছে গ্যাস কিউর, এজমা কিউর, ভেজাল মধু, ছিয়াছিড, সজনে পাতার গুঁড়া প্রভৃতি।
বলা হয়, এসব পণ্য এলার্জি, অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, ব্রণ, চুল পড়া, লিভার-কিডনি সমস্যার সমাধান এমনকি পলিপাস পর্যন্ত সারাতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা সরকারি অনুমোদন নেই।

বিএসটিআই, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন ছাড়াই এসব পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট, ট্যাক্স ও ট্রেড নাম ব্যবহারেও প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতারকদের বিরুদ্ধে মো. আরিফ হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী বলেন ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে ‘এজমা কিউর’ অর্ডার করেছিলাম ১,৯০০ টাকায়। ওরা কুরিয়ারে পাঠায়, কিন্তু পণ্য খাওয়ার পর কোনো কাজ হয়নি। পরে ফোন দিলে ব্লক করে দেয়।



আরেক ভুক্তভোগী বলেন ওরা বলে টাকা ফেরত দেবে, কিন্তু পরে ফোন রিসিভই করে না। আমি থানায় অভিযোগ করার চিন্তা করছি।

স্থানীয় এক বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান ওরা বাসা ভাড়া নিয়ে মাসের পর মাস ধরে অনলাইন ব্যবসার নামে ভেতরে কী করে কেউ জানে না। অনেক লোকজন আসা-যাওয়া করে তাতে সন্দেহজনক কার্যক্রম চলছে বলে ধারণা করা হয়।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন অনলাইন মাধ্যমে হারবাল বা ভেষজ পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অনুমোদন বাধ্যতামূলক। যেসব প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স ছাড়াই পণ্য বিক্রি করছে, তারা সরাসরি আইন লঙ্ঘন করছে। প্রয়োজনে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নকল ও অনুমোদনহীন হারবাল পণ্য বিক্রি এখন একটি নীরব প্রতারণার রূপ নিয়েছে। ভোক্তারা সচেতন না হলে এই ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। ন্যাচারিভরের ছদ্ম কৌশল,  সাংবাদিকের ফোন ও PBI এসপির নাম ভাঙিয়ে ভীতি প্রদর্শন অবশেষে সাংবাদিকদের অর্থের বিনিময়  ম্যানেজ করা বৃথা চেষ্টা সম্পর্কে বিস্তারিত থাকছে অপরাধ অনুসন্ধান মূলক অনুষ্ঠান "ফাঁদসূত্র"।  দেখতে চোখ রাখুন বার্তা বিচিত্রার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব  চ্যানেলে।

Leave Your Comments