উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে ৩৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে জননিরাপত্তার স্বার্থে বিমান বাহিনীর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ রাজধানীর বাইরে সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন—
“তদন্ত কমিটি আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ভবিষ্যতে বিমান বাহিনীর ইনিশিয়াল ট্রেনিং রাজধানীর বাইরে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে তারা, যাতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।”
গত ২১ জুলাই উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিনজন শিক্ষক, তিনজন অভিভাবক ও একজন কর্মচারী ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর ২৯ জুলাই গঠিত তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসান।
কমিটি প্রায় ১৫০ জন প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য নিয়ে ১৬৮টি তথ্য উদ্ঘাটন ও ৩৩টি সুপারিশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ চলাকালে পাইলটের উড্ডয়নের ত্রুটি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
শফিকুল আলম আরও জানান,
“তদন্তে উঠে এসেছে— স্কুল ভবনটি রাজউকের অনুমোদিত বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)-এর আওতায় নির্মিত হয়নি। ভবনে মাত্র একটি সিঁড়ি ছিল, যেখানে ন্যূনতম তিনটি থাকা উচিত ছিল। পর্যাপ্ত সিঁড়ি থাকলে হতাহতের সংখ্যা অনেক কম হতো।”
প্রধান উপদেষ্টা আরও নির্দেশ দিয়েছেন— বরিশাল ও বগুড়ার রানওয়ে সম্প্রসারণের প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়ন এবং রাজউকের সম্প্রসারিত এলাকায় (সাভার, কাঞ্চন ও তারাবো) ভবন নির্মাণে অনুমোদন প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করতে।