হাতিয়ার ইউএনও আলাউদ্দিনের ভিডিও কেলেঙ্কারি

Date: 2026-03-19
news-banner

নোয়াখালীর হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন নিজের সংরক্ষিত ভিডিওতেই ফেঁসে গেছেন। বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ল্যাপটপে রাখতেন তিনি। এক কর্মচারী সেই ভিডিও সংগ্রহ করে ফাঁস করে দিলে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  

পদ থেকে প্রত্যাহার
ঘটনার পর মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাকে হাতিয়ার ইউএনও পদ থেকে প্রত্যাহার করে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করেছে।  

ভিডিও ফাঁস ও বিতর্ক
গত সোমবার সকালে একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আরও ১০টি ভিডিও গণমাধ্যমে পৌঁছায়। ভিডিওগুলোতে বিভিন্ন বয়সী নারীর সঙ্গে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। অনেকেই ধারণা করছেন তিনি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত।  

ইউএনওর দাবি
তবে আলাউদ্দিন দাবি করেছেন, ভিডিওগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া। তার মতে, আগের কর্মস্থলের বিরোধের জেরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা ভিডিও বানিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন।  

সুনামগঞ্জে অতীত অভিযোগ
হাতিয়ার ইউএনও হওয়ার আগে তিনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও শাল্লায় দায়িত্ব পালন করেছেন। সেসময় তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।  
- আনন্দপুর গ্রামের মৃদুল দাস অভিযোগ করেছেন, তার দোকান তিনবার ভেঙে দিয়ে ১০-১২ লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন।  
- তাহিরপুরে কয়লা বিক্রির অনুমতি দিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।  
- দিরাইয়ে ট্রলিচালক জুয়েল মিয়াকে মারধর করে কাঁধ ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।  
- শাল্লায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও অতিরিক্ত জরিমানা করার অভিযোগও উঠে।  

বর্তমান পরিস্থিতি
ভিডিও ফাঁসের পর আলাউদ্দিন কর্মস্থল ত্যাগ করে জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর থেকে তিনি কারও ফোন রিসিভ করছেন না। নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।  

Leave Your Comments