রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তালুক শাহবাজ গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গতকাল বুধবার সকালে বগুড়ার শেরপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই গ্রামের চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শিশু তাইয়্যেবা ইসলাম (১২), তার চাচা মমিনুল ইসলাম রিন্টু (৪৫), চাচি মরিজন বেগম (৪০) এবং ফুফু শিউলি বেগম (৬০)।
গ্রামের উঠানে একসঙ্গে চারটি খাটিয়ায় লাশ রাখা হয়েছিল। তাইয়্যেবাকে বাড়ির উঠানে দাদার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে, আর অন্য তিনজনকে কাউনিয়া কেন্দ্রীয় গোরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে।
গ্রামের প্রবীণ আবদুল গফুর বলেন, ‘এতগুলো মানুষ একসঙ্গে মারা গেল। আমাদের কোনো আনন্দ নাই। এই গ্রামে ঈদ নাই, সবার মন দুঃখে ভেঙে গেছে।’
দুর্ঘটনার বিবরণ
নিহতদের স্বজন সাইফুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ থেকে মাইক্রোবাসে ১৭ জন আত্মীয়স্বজন বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। চালক ভুল করে পাবনার দিকে চলে যান এবং পরে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে থাকেন। ভোরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সড়কের বিভাজকে আঘাত করে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং অনেকে আহত হন।
সাইফুল অভিযোগ করেন, ‘এটা দুর্ঘটনা নয়, এটা অবহেলা। চালক দুই রাত ঘুমায়নি, খালি ভাড়া মেরেছে। রাস্তায় গাড়ি টানছিল ১৩০ কিলোমিটার গতিতে।’
জানাজা ও দাফন
গতকাল রাত সাড়ে ১০টায় গাজীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাইয়্যেবাকে বাড়ির উঠানে এবং অন্য তিনজনকে গোরস্থানে দাফন করা হয়।
আহতদের অবস্থা
দুর্ঘটনায় অন্তত আটজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাইয়্যেবার বাবা শহিদুল ইসলাম, মা রুম্মান রুমি ও বোন তাসমিয়া গুরুতর আহত হয়ে রংপুরের কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ দুর্ঘটনায় বেঁচে গেছে মাত্র ১ বছর ৪ মাসের শিশু ফাতেমা জান্নাত ইলহাম। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
গাড়িতে থাকা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘুম থেকে উঠে দেখি গাড়ি উল্টে গেছে, আগুন জ্বলছে। স্ত্রী-সন্তান কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। আগুনের তাপে গাড়ি পুড়ছে।’