পুলক রায়, নালিতাবাড়ী (শেরপুর):
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতিপক্ষের হামলায় আকলিমা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) উপজেলার পশ্চিম চাঁদগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হলেও মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে খোরশেদ আলম ও রহিজ উদ্দিনের ছেলে আছমত আলীর মধ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। পূর্বে বিষয়টি মীমাংসা হলেও দ্বন্দ্ব পুরোপুরি থামেনি। আছমত আলী নিজে রাস্তা ব্যবহার করলেও খোরশেদ আলমকে বাধা দেওয়ায় বিরোধ আবারও তীব্র হয়।
এর জেরে গত বছরের ৪ আগস্ট উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং এতে আছমত আলী আহত হলে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৪ মার্চ পুনরায় বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে খোরশেদের বাবা আলী হোসেনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে আছমত আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে ২৬ মার্চ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে ফিরে আসে। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আছমত আলী ও তার সমর্থকরা খোরশেদ আলমের পরিবারকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ সময় তারা পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
তবে পুলিশ ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবারও সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খোরশেদ আলমের বোন আকলিমা বেগম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে প্রথমে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতের ভাই খোকন মিয়া অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার প্ররোচনায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। অন্যথায় পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নালিতাবাড়ী থানার এসআই আব্দুল হান্নান জানান, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে তদন্ত করা হয়েছিল। পরে তাদের ফিরে আসার পর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।