যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তাণ্ডব চলছে। ওয়াশিংটন থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস, মিনেসোটা থেকে নিউইয়র্ক—দেশের সব বড় ও ছোট শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ও অন্যান্য সামরিক পদক্ষেপ কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালনা করছেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও আইনের শাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সিএনএসসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজারেরও বেশি স্থানে এই বিক্ষোভ হয়েছে এবং লাখো মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেছেন। ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, ডালাস, ফিলাডেলফিয়া ও মিনিয়াপোলিসে বিশেষভাবে বড় জনসমাগম হয়েছে।
বিক্ষোভের মূল কারণ:
-
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ
-
কঠোর অভিবাসন নীতি
-
রাষ্ট্রক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার
-
মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি
প্রতিবাদকারীরা বলেন, “দেশে কোনো রাজা থাকতে পারে না, জনগণই সর্বোচ্চ ক্ষমতার উৎস।” বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই আন্দোলন মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের স্বৈরাচারী প্রবণতা ও একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিরুদ্ধেই গড়ে উঠেছে। কিছু এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে; লস অ্যাঞ্জেলেস ও ডালাসে সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে।
‘নো কিংস’ আন্দোলন ২০২৫ সাল থেকে বড় আকার ধারণ করেছে এবং ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন এখন শুধু রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়—এটি গণতন্ত্র, ক্ষমতার ভারসাম্য ও নাগরিক অধিকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর বিতর্কের প্রতীক।