বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া বৈঠক, তৈরি পোশাকের বাইরে জাহাজ নির্মাণ ও ইস্পাত খাতে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা

Date: 2026-03-30
news-banner

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান কু।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তিনি নতুন সরকারের বাণিজ্যনীতি, বাজার বহুমুখীকরণ কৌশল এবং নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধানের বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) নিয়ে চলমান আলোচনা সম্পর্কে অবহিত করেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে ইপিএ সম্পন্ন করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ একাধিক দেশের সঙ্গে এফটিএ ও সিইপিএ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের ভৌগোলিক সুবিধা ও বৃহৎ ভোক্তা বাজারকে কাজে লাগিয়ে রিজিওনাল কমপ্রেহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ যোগদানের আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

এছাড়া তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের সফলতা উল্লেখ করে কোরীয় বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং চলমান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত ইপিএ ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি কার্যকর মডেল হতে পারে। বর্তমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় কম উল্লেখ করে তিনি জাহাজ নির্মাণ, ইস্পাত, উৎপাদন ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়া বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।

বৈঠক শেষে উভয় দেশ পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

Leave Your Comments