ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিষয়ে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে ইরান। ঢাকায় ইরানের দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী।
রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন, রাশিয়া ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে মার্কিন আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সেখানে মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কাছ থেকেও আগ্রাসনবিরোধী আরও দৃঢ় অবস্থান প্রত্যাশা করে ইরান।
হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, জাহাজগুলোর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে তেহরানে পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলোর কোনো ক্ষতি হবে না। ইতোমধ্যে ৬টি বাংলাদেশি জাহাজ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উভয় পক্ষ কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের বিষয়ও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, দেশের পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সারির চিত্র তেহরানে পাঠানো হয়েছে, যাতে ইরান পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো আলোচনা হয়নি। তার অভিযোগ, যুদ্ধের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিভিন্ন প্রস্তাবের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
ইরান যুদ্ধের পক্ষে নয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, তেহরান এমন সমাধান চায় যাতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ লক্ষ্যে পাকিস্তান, তুরস্কসহ মুসলিম বিশ্বের যেসব দেশ শান্তি আলোচনায় আগ্রহী, তাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানায় ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, অস্ত্র ও অর্থের ঘাটতি দেখা দিলে ওয়াশিংটন ভিন্ন কৌশল নেয় এবং চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নতিস্বীকার করাতে চায়। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের নিন্দা জানান এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের হামলায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এছাড়া, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো ও একক ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কেবল আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর নির্ভর করার সময় শেষ—এ বিষয়ে ইরান ইতোমধ্যে শিক্ষা নিয়েছে।