হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের জন্য সুখবর, মক্কায় বিমানবন্দর নির্মাণ করছে সৌদি আরব

Date: 2026-04-03
news-banner

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কাকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা। এর অংশ হিসেবে এবার মক্কায় নিজস্ব আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং লাখো হজ ও ওমরাহ যাত্রীর যাতায়াত আরও সহজ করা।

মক্কা সিটি ও পবিত্র স্থানগুলোর রয়্যাল কমিশনের প্রধান নির্বাহী সালেহ আল-রাশিদ জানিয়েছেন, প্রকল্পটির কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে একটি আধুনিক বিমানবন্দর গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

সৌদি গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বে এই বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে জেদ্দার কিং আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রকল্পটি প্রাথমিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হলেও নির্মাণ কাজ শুরুর নির্দিষ্ট সময় এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

বর্তমানে মক্কায় যেতে হলে জেদ্দা হয়ে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। নতুন বিমানবন্দর চালু হলে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে, ফলে যাত্রীদের সময় ও ভোগান্তি উভয়ই কমবে।

এদিকে মক্কার পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে মেট্রো প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে। এর সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক নকশা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাস্তবায়ন হলে পবিত্র স্থানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ হবে।

‘স্মার্ট মক্কা’ কর্মসূচির আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে জামারাত সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভিড় নিয়ন্ত্রণে পূর্বাভাসভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দুর্ঘটনা ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করছে।

মক্কার বাস নেটওয়ার্কও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে ১২টি রুটে প্রায় ৪০০টি বাস চলাচল করছে, যা ৪৩০টির বেশি স্টপেজ ও চারটি কেন্দ্রীয় স্টেশনকে সংযুক্ত করেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই সেবায় ১৮ কোটি ৫০ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে এবং ৩৮ লাখের বেশি ট্রিপ সম্পন্ন হয়েছে।

এর পাশাপাশি ‘মক্কা ট্যাক্সি’ সেবাও চালু হয়েছে, যেখানে আধুনিক যানবাহন, জিপিএস ট্র্যাকিং, ইলেকট্রনিক পেমেন্ট এবং বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির সুবিধা রয়েছে।

মক্কার রিং রোডের বড় অংশের কাজ শেষ হওয়ায় পবিত্র মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলোর সঙ্গে সংযোগ সহজ হয়েছে এবং যানজট অনেকাংশে কমেছে।

এছাড়া আরাফাত, মিনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ হজস্থলগুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে বহুস্তরবিশিষ্ট আধুনিক তাঁবু, নতুন আবাসিক টাওয়ার এবং ২০০ শয্যার জরুরি হাসপাতাল। পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে গাছ লাগানো, ছায়াযুক্ত পথ তৈরি এবং উন্নত পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব উন্নয়ন শুধু হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতাই উন্নত করবে না, বরং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। তাদের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে যাত্রী সন্তুষ্টির হার ৯০ শতাংশেরও বেশি করা। নতুন বিমানবন্দর ও মেট্রো প্রকল্প মক্কার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave Your Comments