পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ কাঠের সিঁড়ি বেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে এলাকাবাসী

Date: 2026-05-08
news-banner

আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরোঃ

পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের কালিকাঠী গ্রামের একটি নির্মাণাধীন সেতু এখন স্থানীয় মানুষের জন্য ভোগান্তি ও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির দুই পাশে এখনো সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়নি। ফলে এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে কাঠের অস্থায়ী সিঁড়ি ব্যবহার করে সেতু পারাপার করছেন। এতে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, কালিকাঠী গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যা দূর করতে ২ কোটি ৫৬ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে ২১ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণকাজ ২০২১ সালে শুরু হয়। ২০২২ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ রয়েছে। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মহিউদ্দিন আহম্মেদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রেখে চলে যায়। এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় মানুষ কাঠের তৈরি অস্থায়ী সিঁড়ি ব্যবহার করে ওঠানামা করছে। সিঁড়িগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের চলাচলে বেশি সমস্যা হচ্ছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক ইমাম হোসেন বলেন, প্রতিদিন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, মুসল্লি ও রোগীসহ শত শত মানুষ এই সেতু ব্যবহার করেন। কাঠের সিঁড়ি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় যুবক হাফিজুর রহমান বলেন, সেতুর দুই পাশে রড বের হয়ে থাকায় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা তামান্না বেগম বলেন, সন্তানকে নিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হয়। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পিরোজপুর এলজিইডির জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী লায়লা মিথুন জানান, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave Your Comments