শিক্ষিকার ছোড়া ডাস্টারের আঘাতে রক্তাক্ত শিক্ষার্থী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে

Date: 2026-05-13
news-banner

নিজস্ব প্রতিনিধি:

নাটোরের লালপুর উপজেলায় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষিকার ছোড়া ডাস্টারের আঘাতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। আহত শিশুটির জিহ্বা কেটে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, সেখানে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) উপজেলার ওয়ালিয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম মো. তাওহীদ (৭)। সে ওয়ালিয়া গ্রামের সোহানুর রহমানের সন্তান।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে শিক্ষিকা হাফিজা খাতুন শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ফেরাতে বেঞ্চের ওপর ডাস্টার নিক্ষেপ করেন। ওই ডাস্টারটি শিক্ষার্থী তাওহীদের চোয়ালে আঘাত করলে তার জিহ্বা কেটে গুরুতর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে পড়ে শিশুটি। এতে শ্রেণিকক্ষে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ধুপইল সার্জিক্যাল হাসপাতালে এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে শিশুটির বাবা সোহানুর রহমান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত শিক্ষিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এমন ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ না হয়, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

অভিযুক্ত শিক্ষিকা হাফিজা খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ক্লাসে শৃঙ্খলা ফেরাতে বেঞ্চে ডাস্টার নিক্ষেপ করেছিলেন, তবে সেটি সরাসরি শিক্ষার্থীর মুখে লাগেনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান জানান, ঘটনার সময় ক্লাসে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত শব্দ ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহকারী শিক্ষিকা ডাস্টার নিক্ষেপ করলে তা শিক্ষার্থীর মুখে আঘাত হানে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave Your Comments