মেজর লিগ সকার (এমএলএস) এখন আর শুধু যুক্তরাষ্ট্র-কেন্দ্রিক ফুটবল লিগ নয়, বরং বিশ্বের বড় তারকাদের উপস্থিতিতে ক্রমেই বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রতীক এখন লিওনেল মেসি।
ইন্টার মায়ামির আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসি এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত সর্বশেষ বেতন তালিকায় লিগের সবচেয়ে বেশি বেতনভোগী খেলোয়াড় হিসেবে শীর্ষে আছেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তার বার্ষিক মূল বেতন ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা। নতুন চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ মৌসুম পর্যন্ত ইন্টার মায়ামিতে থাকলে তার নিশ্চিত মোট আয় দাঁড়াবে প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ ডলার (প্রায় ৩৪৭ কোটি টাকা)।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা সন হিউং-মিন, যিনি সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেস এফসিতে যোগ দিয়েছেন। তার বার্ষিক মূল বেতন ১ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং সব মিলিয়ে নিশ্চিত পারিশ্রমিক ১ কোটি ১২ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা। তাকে দলে নিতে ক্লাবটি প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার ট্রান্সফার ফি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
তৃতীয় স্থানে আছেন আর্জেন্টিনার রদ্রিগো ডি পল, যার বার্ষিক নিশ্চিত আয় ৯৭ লাখ ডলার (প্রায় ১১৯ কোটি টাকা)। চতুর্থ স্থানে মেক্সিকোর তারকা হিরভিং লোজানো, আয় ৯৩ লাখ ডলার (প্রায় ১১৪ কোটি টাকা)। পঞ্চম স্থানে আছেন উরুগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন, যার আয় ৭৯ লাখ ডলার (প্রায় ৯৭ কোটি টাকা)।
বেতন তালিকা অনুযায়ী, শীর্ষ ও দ্বিতীয় স্থানের পার্থক্যই সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো। মেসির আয় সনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। এই হিসাব শুধু ক্লাবের মূল বেতন ও নিশ্চিত পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে করা হয়েছে; স্পনসরশিপ বা বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া আয় এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। এমনকি ইন্টার মায়ামির মালিকানায় অংশীদার হওয়ার সুযোগও এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে।
৩৮ বছর বয়সেও এমএলএসে দারুণ ফর্মে আছেন মেসি। ইন্টার মায়ামির হয়ে তিনি এখন পর্যন্ত নিয়মিত মৌসুমে ৬৪ ম্যাচে ৫৯ গোল করেছেন। গত মৌসুমে ২৯ গোল করে হয়েছেন লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং টানা দ্বিতীয়বারের মতো জিতেছেন এমভিপি পুরস্কার।
সব মিলিয়ে এমএলএস এখন শুধু উদীয়মান লিগ নয়, বরং বড় তারকাদের উপস্থিতিতে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক এক বৈশ্বিক মঞ্চে পরিণত হচ্ছে—যার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন লিওনেল মেসি।