দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্যে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫১ হাজার ৫৬৭ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৪ জনের শরীরে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৪২৫ জন, যাদের মধ্যে ৬৮ জনের সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছিল। আক্রান্ত ও মৃতদের অধিকাংশই শিশু।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত দেড় দশকে দেশে এত বড় হামের প্রাদুর্ভাব আর দেখা যায়নি। জাতীয় টিকাদান-সংক্রান্ত কারিগরি উপদেষ্টা গ্রুপের (নাইট্যাগ) সাম্প্রতিক বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন, প্রাদুর্ভাব চলাকালে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুকেও হামে মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা উচিত।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি সংক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনসংখ্যার অনুপাতে এ সংখ্যা আন্তর্জাতিকভাবেও অনেক বেশি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর পর্যাপ্ত টিকাদান না হওয়াই বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ। পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিহীনতাও সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ বলেন, টিকাদানে ঘাটতির কারণে সংক্রমণ বেড়েছে। তবে সময়মতো জরুরি ব্যবস্থা নিলে অনেক মৃত্যু ঠেকানো যেত। তিনি হামকে মহামারি ঘোষণা করে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ চিকিৎসা নির্দেশিকা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ১ হাজার ১০৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত রোগী পাওয়া গেছে ৮৭ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক দশকে বছরে ৫০ হাজারের বেশি হাম রোগী পাওয়া দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ এখন পঞ্চম। এর আগে ভারত, ইউক্রেন, মাদাগাস্কার ও কঙ্গোতে এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত গণটিকাদান কর্মসূচি জোরদার, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত এবং স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।