আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশালঃ
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চনার অবসান ঘটাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বরিশাল। বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগকে ঘিরে স্বাস্থ্যখাতে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের তদারকি এবং চিকিৎসক সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের ঘোষণায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
বহু বছর ধরে উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন বরিশাল বিভাগের মানুষ। জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য বাধ্য হয়ে ছুটতে হয়েছে ঢাকা কিংবা দেশের অন্যান্য বড় শহরে। এতে সময়, অর্থ ও দুর্ভোগ—সবকিছুর চাপ বহন করতে হয়েছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।
বর্তমানে শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতাল-এ প্রতিদিন হাজারো রোগীর চাপ থাকলেও চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট প্রকট। ১২০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবলের বড় অংশই শূন্য রয়েছে। পুরো বরিশাল বিভাগে চিকিৎসক পদের অর্ধেকেরও বেশি দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকায় উপজেলা থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বকুল বরিশাল সফরে এসে আগামী ১ আগস্টের মধ্যে শিশু হাসপাতাল চালুর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট লাঘবে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ জন চিকিৎসক দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরদিন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার বরিশাল সফরে এসে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে শূন্য থাকা চিকিৎসকসহ অন্যান্য পদ দ্রুত পূরণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই ক্যানসার ও শিশু হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ক্যানসার হাসপাতালের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিশু হাসপাতালের মূল অবকাঠামোও প্রস্তুত। এখন বিদ্যুৎ সংযোগ, সাব-স্টেশন, জেনারেটর ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতাল দুটি চালু হলে বরিশাল বিভাগের লাখো মানুষ বিশেষায়িত চিকিৎসা নিজ এলাকাতেই পাবেন। এতে রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসা নির্ভরতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
সাধারণ মানুষের আশা, বহু প্রতীক্ষার পর এবার সত্যিই দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। সরকার ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বরিশাল-এর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং এটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য এক বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।