তিস্তার চরে বাদামের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন, আশায় বুক বাঁধছেন কৃষক

Date: 2026-05-18
news-banner

আতিক ইসলাম, কাউনিয়া (রংপুর)প্রতিনিধিঃ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা নদীঘেঁষা চরাঞ্চলে দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাদাম চাষ। কম খরচে অধিক লাভের সম্ভাবনা থাকায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এই ফসলের প্রতি। চলতি খরিপ-১ মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে বাদামের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সবুজে ভরা ক্ষেত দেখে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীর চরাঞ্চলের বেলে ও দোআঁশ মাটি বাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। অন্যান্য ফসলের তুলনায় খরচ কম এবং বাজারমূল্য ভালো থাকায় অনেক কৃষক এবার বেশি জমিতে বাদামের আবাদ করেছেন। বিশেষ করে তিস্তা বেষ্টিত চরাঞ্চল, বালাপাড়া, টেপামধুপুর ও হারাগাছ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়ছে বিস্তীর্ণ বাদামের ক্ষেত।

চরগনাই গ্রামের কৃষক দুদু মিয়া বলেন,
“আলু চাষে লোকসান হওয়ায় এবার কয়েক বিঘা জমিতে বাদাম লাগিয়েছি। খরচ কম, লাভও ভালো। ফলন ভালো হলে আগামীতে আরও বেশি জমিতে চাষ করব।”

প্রাণনাথ চরের আরেক কৃষক জানান, সময়মতো বৃষ্টি ও সঠিক পরিচর্যার কারণে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। এতে এবার ভালো উৎপাদনের আশা করছেন তারা।

তবে তিস্তায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে কিছু কৃষকের ক্ষতির কথাও উঠে এসেছে। ঢুসমারা চরের কৃষক তাজরুল ইসলাম বলেন,
“নদীতে আকস্মিক পানি বাড়ায় অনেকের বাদামের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। কৃষকের ক্ষতির খবর কেউ রাখে না। সহজ শর্তে কৃষি ঋণ ও আধুনিক চাষাবাদে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।”

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কাউনিয়ায় প্রায় ৭৮৫ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৫ মেট্রিক টন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার জানান, বাদাম চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ৫০ জন কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। চর প্রকল্পের আওতায় ১৪টি ও রাজস্ব খাতে ৬টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষেতের অবস্থা ভালো থাকায় আশাব্যঞ্জক ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, চরাঞ্চলে বাদাম চাষের আরও প্রসার ঘটলে কৃষকের আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

Leave Your Comments