নিজস্ব প্রতিনিধি :
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বুধবার সকালে আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনের সময় কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, তাঁরা র্যাবিস ভ্যাকসিন পেতে হয়রানির শিকার হয়েছেন। কেউ কেউ ২৫০ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানান। এসব অভিযোগ শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক গাজী রফিকুল ইসলাম-এর কাছে কারণ জানতে চান।
জবাবে তত্ত্বাবধায়ক জানান, আগে ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থল থেকেই ঢাকায় যোগাযোগ করে মন্ত্রী জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য কোনো চাহিদাপত্র পাঠানো হয়নি। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
পরে হাসপাতালের রান্নাঘর পরিদর্শনে গিয়ে রোগীদের খাবারের মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কুমড়ার তরকারি মুখে দিয়ে তিনি তা ফেলে দেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করেন, “এ ধরনের তরকারি আপনাদের বাসায় রান্না হলে কি খেতেন?”
তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রোগীদের জন্য মানসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শৌচাগারও ঘুরে দেখেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন Khulna City Corporation-এর প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এবং খুলনার সিভিল সার্জন মোছা. মাহফুজা খাতুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত Khulna Medical College Hospital-ও পরিদর্শন করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “হাসপাতালে এত রোগী যে কিছু অনিয়ম থাকবে। তবে কিছু অনিয়ম মানার মতো নয়। জনগণের স্বার্থে যতটুকু অ্যাকশন নেওয়া যায়, ততটুকু অ্যাকশনে যাব। অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন নিয়ে যে অভিযোগ এসেছে, তা আরও খতিয়ে দেখা হবে। তবে ওয়ার্ড পরিদর্শনের সময় অনেক রোগী সেবা ভালো পাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন।”