নিজস্ব প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় দায়ের করা অস্ত্র মামলায় ১৩ আসামিকে পৃথক দুই ধারায় ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালত-এর বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. হেলাল উদ্দিন, নাছির উদ্দিন, মোর্শেদ আলম এবং নুরুল আমিন। তাঁদের মধ্যে মোর্শেদ আলম পলাতক রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি খুরশিদ আলম চৌধুরী জানান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন।
হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া নয় আসামির মধ্যে রয়েছেন জালাল উদ্দিন, মো. আনোয়ার হাকিম, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, জিয়াবুল করিম, মো. ইসমাইল হোসেন, এনামুল হক, মোহাম্মদ এনাম, মো. কামাল এবং আবদুল করিম।
খালাস পাওয়া পাঁচজন হলেন মো. ছাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, শাহ আলম, আবু হানিফ এবং মিনহাজ উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হন লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন। এ ঘটনায় ২৫ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ চার মাস তদন্ত শেষে গত বছরের ১৯ জানুয়ারি ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, হত্যা মামলায় ৫২ জন সাক্ষী এবং অস্ত্র মামলায় ৪৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষও সাফাই সাক্ষ্য উপস্থাপন করে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল এহেছান বলেন, “সমাজে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ রায় যুগান্তকারী হিসেবে বিবেচিত হবে।”
নিহত লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তিনি ২০২২ সালে Bangladesh Military Academy থেকে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে আর্মি সার্ভিস কোরে কমিশন লাভ করেন।