গণমাধ্যম সংস্কারে সব পক্ষকে নিয়ে এগোতে চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী

Date: 2026-05-20
news-banner

গণমাধ্যম সংস্কারে সরকার সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে চায় বলে জানিয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, এ পর্যন্ত গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে যেসব আলোচনা, সুপারিশ ও নীতিগত প্রস্তাব এসেছে, সেগুলোই ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান-এর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট মিডিয়া অ্যান্ড হেলদি ইনফরমেশন এনভায়রনমেন্ট (পিআইএমএইচআইই)’ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। BBC Media Action যুক্তরাজ্যের Foreign, Commonwealth and Development Office-এর অর্থায়নে এই আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম খাত নিয়ে ইতিমধ্যে সম্পাদক, গণমাধ্যমমালিক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই একটি পরামর্শ কমিটি গঠন করা হবে এবং সেই কমিটির মাধ্যমে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, “গণমাধ্যম সংস্কার শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয়। সরকার, গণমাধ্যম, উন্নয়ন সহযোগী ও নাগরিক সমাজ—সব পক্ষের যৌথ অংশগ্রহণে একটি জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার গণমাধ্যমব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার গণমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাতে নয়, অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চায়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে এমন আইন ও নীতিমালা থেকে সরকার সরে আসতে চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপতথ্য ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন হলেও, তা যেন কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সারাহ কুক বলেন, স্বাধীন ও বহুমাত্রিক গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। তবে বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাত এখনো সীমাবদ্ধ আইনি কাঠামো, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ, অপতথ্যের বিস্তার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতার মতো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং সরকারের চলমান উদ্যোগ বাংলাদেশে একটি কার্যকর ও স্বাধীন গণমাধ্যমব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

অনুষ্ঠানে গত ১৫ মাসে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। আরাফাত আলী সিদ্দিক জানান, প্রকল্পের আওতায় সম্প্রচার সাংবাদিকদের জন্য দেশের প্রথম নীতিমালা প্রণয়ন, সংবাদকক্ষে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নির্দেশিকা তৈরি, নির্বাচনকালীন সংবাদ পরিবেশন নির্দেশিকা এবং গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ এবং Jamuna Television-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ

Leave Your Comments