অভিনব নকশার পাটপণ্যই পারে রপ্তানি বাজারে শক্ত অবস্থান নিতে: কর্মশালায় অভিমত

Date: 2026-05-23
news-banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

রপ্তানি বাজারে সফলভাবে টিকে থাকতে ডিজাইনের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন শুধু পণ্যের গুণগত মান নয়, বরং এর উপস্থাপন, নকশা, রঙ, ব্যবহারিক দিক ও আধুনিকতার প্রতিফলনও সমানভাবে বিবেচনা করেন ক্রেতারা। তাই বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে যুগোপযোগী ও অভিনব ডিজাইনের পাটপণ্য তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

উদ্যোক্তাদের ডিজাইন বিষয়ে দক্ষতা ও উৎকর্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে গত ৯ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় একটি বিশেষ কর্মশালা। সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হোসেন এবং বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের প্রতিনিধি রাজ্জাকুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, একজন উদ্যোক্তার সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং আধুনিক ডিজাইন আন্তর্জাতিক বাজারে তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। একটি ভালো ডিজাইন শুধু পণ্যের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, বরং ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে বাজার সম্প্রসারণ এবং পণ্যের বাণিজ্যিক মূল্যও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে বর্তমানে ডিজাইনকে শুধু শিল্প নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য, বিশেষ করে বহুমুখী পাটপণ্যের ডিজাইন ডেভেলপমেন্টে এখনও পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গড়ে ওঠেনি। অধিকাংশ উদ্যোক্তা ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কাজ করছেন। তবে বিশ্ববাজারে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে গবেষণাভিত্তিক, আধুনিক ও বাজারমুখী ডিজাইন উন্নয়নের বিকল্প নেই।



নতুন উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় বাজারে কাজ করা ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে ৩০ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। দেশের স্বনামধন্য তিনজন ডিজাইনারের নেতৃত্বে কর্মশালাটি পরিচালিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজার সম্পর্কে আরও বাস্তবসম্মত জ্ঞান, দিকনির্দেশনা ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছেন। এর ফলে তারা রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন এবং বাংলাদেশের পাটপণ্যকে বিশ্ববাজারে আরও শক্ত অবস্থানে নিতে সক্ষম হবেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডিজাইনার কোহিনুর বেগম, শিল্পী শৈবাল সাহা, নেদারল্যান্ডভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পাম-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম সুমন এবং বাংলাদেশ বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো. রাশেদুল করিম মুন্না।

Leave Your Comments