আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তবর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে গোপনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে গোলামির চুক্তি আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবিতে পঞ্চগড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।একই সাথে ভারতে মুসলমানদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানানো হয়।
ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা সংগঠনের আয়োজনে সোমবার (২৫ মে) ঘণ্টাব্যাপী পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর বাজার এলাকায় এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন,পঞ্চগড় জেলা ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা সংগঠনের পক্ষে ওলিয়ার রহমান, সংগঠনের সদস্য জাকির হোসেন, মশিউর রহমান, লূৎফর রহমান প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র ৩ দিন আগে জনগণের সাথে লুকোচুরি করে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। তারা দাবি করেন, একটি অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের সাথে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদী বা সুদূরপ্রসারী চুক্তি করার কোনো আইনি বা নৈতিক অধিকার নেই। এই চুক্তি মূলত স্বাধীন বাংলাদেশকে মার্কিন গোলামির শৃঙ্খলে আবদ্ধ করার একটি চক্রান্ত।
ধর্মীয় ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে সমাবেশে বলা হয়, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন শুকরের মাংসজাত খাদ্য আমদানির পথ সুগম করা হয়েছে। এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্ষতিকর জিএমও (জেনেটিক্যালি মডিফাইড) খাবার আমদানির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এছাড়া এই চুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাত ও ঔষুধ বাজারে প্রভাব পড়বে বলে অভিযোগ তুলে চুক্তি বাতিলের দাবি জানানো হয়। বিশ্বব্যাপী ট্রাম্প প্রশাসনের প্রণীত ‘পোল্ট্রি শুল্কনীতি’ ইতিমধ্যে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে বাতিল করেছে। অথচ সেই বাতিলকৃত নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা একটি বাণিজ্য চুক্তি কীভাবে বাংলাদেশের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন। অবিলম্বে বর্তমান সরকারকে এই চুক্তি বাতিলের দাবি জানানো হয়।
পরে ৩২ পৃষ্ঠারের বিতর্কিত ওই বাণিজ্য চুক্তির প্রতীকি কপিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা। মানববন্ধনে পঞ্চগড় জেলা ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ জনতা উপস্থিত ছিলেন।