সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাশে ঘোষপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরের সামনে চরভরাটি জমি দখলকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
শ্বসান মন্দিরের জমি দাবি করে ওই জমিতে দখল কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাজরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাশে ঘোষপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরের সামনে অবস্থিত চরভরাটি জমি মন্দিরের জমি দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে যুবলীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক শ্যামপদ ঘোষ ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি অসিত বরণ ঘোষের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি তারা ওই জমিতে কোদাল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দখল কার্যক্রম শুরু করলে স্থানীয় সাধারণ মানুষ বাধা দেন।
একপর্যায়ে এলাকাবাসীর বাধার মুখে তারা ব্যবহৃত কোদাল ও লাঠিসোঁটা ফেলে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
তবে স্থানীয়দের দাবি, পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন বুলু এবং জামায়াতের ইউনিয়ন সভাপতি, ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করে আবারও ওই জমিতে দখল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তারা পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মসজিদের নির্মাণকাজের খুঁটি চুরি, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ চাল আত্মসাৎ এবং চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থিত জমি নিয়ে এ ধরনের বিরোধ ও দখলচেষ্টার ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জমিটির প্রকৃত মালিকানা, শ্রেণি ও রেকর্ড যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বড় ধরনের বিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা।
এ অবস্থায় খাজরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে জমির কাগজপত্র, খতিয়ান ও দাগ নম্বর যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
এলাকাবাসী আরও দাবি করেছেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দখলচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
বর্তমানে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার সাধারণ মানুষ অজানা আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।