মেহেরপুর জেলার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শওকত আরা আক্তার ঊর্মি বলেছেন ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার এটাই আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। এই দেশে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সহ ধর্মের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনারা বিগত সময়ে আমাদের পাশে ছিলেন ধানের শীষ কে বিজয়ী করেছেন।এ জন্য প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের এই ভালোবাসা ও আত্মার মর্যাদা ও আত্মার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও আমরা আপনাদের পাশে আছি ভবিষ্যতেও থাকবো। মেহেরপুরের বিএনপির নেতাকর্মীরাও আপনাদের সুখে দুখে পাশে থাকবেন। গত শনিবার সকাল ১১ টায় মেহেরপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মেহেরপুরের হিন্দুর সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শাড়ি বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এমপি শওকতারা আক্তার উর্মি আরো বলেন বিএনপি নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং ৩১ দফায় যে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছিল সেগুলো বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন।
আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া নয় বরং মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে রাষ্ট্র সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দেয়া। বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন নারী সারা জীবন পরিবারের জন্য পরিশ্রম করেন সংসার পরিচালনা করেন সন্তানদের লালন পালন করেন অথচ অনেক সময় তার হাতে নিজস্ব অর্থনৈতিক সামর্থ্য থাকে না। নারীদের এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই নারীরা যেন পরিবারের উপর নির্ভরশীল না থেকে নিজেরাও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে পারেন। তিনি বলেন আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে ধর্মীয় পরিচয় এর কারণে কেউ অবহেলিত হবেন না কেউ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন না এবং কেউ রাষ্ট্রীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না। রাষ্ট্রের সুযোগ সুবিধা কোন বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নয় এই অধিকার প্রতিটি নাগরিকের।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের কল্যাণ নারীর ক্ষমতায়ন এবং সব ধর্মের মানুষের মর্যাদা রক্ষায় আমরা কাজ করে যেতে চাই। অনুষ্ঠানে সভাপত্র করেন জেলা বিএনপি'র সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাবেদ মাসুদ মিল্টন। সভাপতির বক্তব্যে জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন মেহেরপুরে ধর্মীয় সম্প্রীতিও পারস্পরিক সোহার্দ্য বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় এর ঊর্ধ্বে উঠে জেলার সব মানুষকে সম্মান সমান মর্যাদা দেওয়া এবং সুখে দুখের একে অপরের পাশে দাঁড়ালে তাদের প্রত্যাশা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর এক আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদেরন ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট কামরুল হাসান ।মাসুদ অরুন বলেন বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। এখানে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন ও নিরাপদে বসবাসের অধিকার রয়েছে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পারস্পারিক শ্রদ্ধা সম্প্রীতি ও সহাবশ্যস্থানের মধ্যে যে সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
এডভোকেট কামরুল হাসান বলেন মানুষের কল্যাণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ধর্মীয় পরিচয় যাইহোক প্রতিটি মানুষের মর্যাদা রক্ষা এবং সবার পাশে দাঁড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক লিটন রোমানা আহমেদ মুজিবনগর উপজেলার বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিমসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম।