কাওছার আহমদ (কুলাউড়া, মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকের ৪৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের ১৫টি পদ শূন্য থাকলেও মূল্যত প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য ৪৫টি। সহকারি ৩০ শিক্ষককে চলতি দায়িত্বের মাধ্যমের দিয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এসব শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলেও তারা বেতন পান সহকারি শিক্ষক পদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার ২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০টি সহকারি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বন্ধ থাকায় বিয়ানীবাজারে এ পদের শূন্যতা দেখা দেয়। অবসরজনিত কারণে প্রধান শিক্ষক পদের মধ্যে অধিকাংশ পদ শূন্য হয়েছে। দু একটিুক্ষেত্রে মৃত্যুজনিত কারণ রয়েছে। অবসরজনিত কারণে বিয়ানীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগামী এক বছরের মধ্যে শূন্য পদের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীলরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজারে ১৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়েল মধ্যে ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে প্রধান শিক্ষক করা হয়। এরপরও উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাজপুর আভঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নয়াগ্রাম-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাটিঝুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেবারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকায় এসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ চলতি দায়িত্বের মাধ্যমে পুরণ করা হবে। সারা দেশের সাথে ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিয়ানীবাজার উপজেলার ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে সহকারি শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলে তারা বেতন পান সহকারি শিক্ষকের। শুধু কার্য সম্পাদন বাবত প্রতি মাসে পনের শতটাকা করে বাড়তি পান।
উপজেলার ২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০টি সহকারি শিক্ষকের শূন্য পদ শিগগিরই পুরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সহকারি শিক্ষক পদের জন্য সরকার আগামী নভেম্বরের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। এরমধ্যে সারা বাংলাদেশে সহকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক হওয়ায় কয়েকজন সহকারি শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি কিন্তু আমরা বেতন পাচ্ছি সহকারি শিক্ষকের। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি পাঠদানসহ অন্যান্য কাজও আমাদের করতে হয়। প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে প্রত্যেক মাসে অনেকবার শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। এতে বাড়তি পরিশ্রমের সাথে ব্যয়ও বেড়ে যায়। এবিষয়টি উর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের দেখা উচিত।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খালেদ জাফরী বলেন, চলতি দায়িত্বে যেসব সহকারি শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব¡ দেয়া হয়েছে তারা প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক দুই পদেই রয়েছেন। শিক্ষা কার্যক্রম গতিশীল করতে যাদের প্রধান শিক্ষক করা হয়েছে তাদেরকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পদোন্নতি দেয়া এবং তাদের শূন্যস্থানে সহকারি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন। আমাদের প্রত্যাশা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নেবেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোমান মিয়া বলেন, বিয়ানীবাজারে বর্তমানে ১৫টি প্রধান শিক্ষক পদ এবং ৩০টি সহকারি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। একই সাথে চলতি দায়িত্বে ৩০জন সহকারি শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সহকারি শিক্ষকের নিয়োগ আগামী নভেম্বরের দিকে হতে পারে বলে জেনেছি কিন্তু প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ রয়েছে। শূন্য হওয়া বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ চলতি দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে পুরণ করা হবে।