গোলটেবিল বৈঠক: বিদেশগামী শ্রমিকদের সেবা এক ছাতার নিচে আনতে হবে

Date: 2026-05-06
news-banner

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া নারী অভিবাসী শ্রমিকদের সংখ্যা বাড়লেও তাঁদের দক্ষতা, নিরাপত্তা ও সেবাপ্রাপ্তিতে নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দালাল চক্র, ঘুষ ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এখনও এ খাতের বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। এসব সমস্যা দূর করে নারী অভিবাসীদের জন্য সব ধরনের সেবা এক ছাতার নিচে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত ‘নারী অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপদ অভিবাসন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যৌথভাবে এ আয়োজন করে বাদাবন সংঘ ও প্রথম আলো।

গোলটেবিলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, নারী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন করে বিদেশে পাঠানো এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি জানান, বিদেশে কর্মরত নারীদের সুরক্ষায় আইনি সহায়তা, ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা এবং বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা আলাদা আলাদা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করায় সম্পদের অপচয় হচ্ছে। তাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। একই সঙ্গে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু, অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিনিধি রাহনুমা সালাম খান বলেন, তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব নারী শ্রমিকদের শোষণের অন্যতম কারণ। তিনি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) সংস্কার এবং বিদেশফেরত নারীদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির ওপর জোর দেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়নকর্মীরা বলেন, নারী অভিবাসীদের সুরক্ষায় ইউনিয়ন পর্যায় থেকে তথ্য ও পরামর্শ সেবা পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি বিদেশে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য, খরচ ও ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।

বক্তারা আরও বলেন, বিদেশে নারী কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য, শারীরিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। দেশে ফিরে আসা নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা অভিবাসন খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে কার্যকর আইন প্রয়োগের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে নারী অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Leave Your Comments