সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সৌদি আরবে নির্যাতিত নারীদের পক্ষে কথা বলায় ৬ বছর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরম হেনস্থা ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন সুনামগঞ্জের ৫৫ বয়সের এক নারী।
‘Sunamganj24.tv’ নামের একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে পুরনো ভিডিওকে বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর ক্যাপশনে নতুন করে প্রচার করায় পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি। এই মানহানিকর অপপ্রচারের প্রতিকার ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে অবশেষে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সেই বয়স্ক নারী।
ভুক্তভোগী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬ বছর আগে ওই নারী সৌদি আরবে গিয়ে ছিলেন। সে সময় সেখানে প্রবাসী আরও বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের ওপর হওয়া বিভিন্ন নির্যাতন ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন। দেশে ফিরে তিনি একটি ভিডিওর মাধ্যমে এক সাংবাদিককে বক্তব্য দেন। মূলত প্রবাসীদের অধিকার ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই তিনি সেই বক্তব্য দিয়েছিলেন।
কিন্তু সম্প্রতি ‘Sunamganj24.tv’ নামক একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে সেই ৬ বছর আগের ভিডিওটি পুনরায় আপলোড করা হয়।
ভিডিওটিতে "সৌদি আরবে সুনামগঞ্জের মেয়েকে যৌন নির্যাতন" এবং "সৌদি আরবে সুনামগঞ্জের এক মেয়েকে কী করলো শুনুন..."—এমন চটকদার, বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর শিরোনাম ব্যবহার করা হয়। ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ইতিমেধ্য ১৬ হাজারেরও বেশি লাইক এবং প্রায় দেড় হাজার শেয়ার ছাড়িয়েছে।
বর্তমানে বিপাকে পরিবার। অভিযোগ নিয়ে থানায় অভিযোগ করে ভুক্তভোগী জানান, হঠাৎ করে ৬ বছর আগের একটি ভিডিও সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবং বিভ্রান্তিকর ক্যাপশনে ছড়িয়ে পড়ায় ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবার সামাজিক ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে প্রতিনিয়ত নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের।
সামাজিক এই মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়া এবং মানহানির হাত থেকে বাঁচতে অবশেষে ওই নারী সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় হাজির হয়ে উক্ত ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী ওই নারী আরও বলেন,
"আমি ৬ বছর আগে প্রবাসীদের কষ্টের কথা বলেছিলাম। আজ এত বছর পর সেই ভিডিওটি এনে একটি ভুয়া পেজ থেকে নোংরা শিরোনাম দিয়ে ছড়ানো হচ্ছে। এর ফলে সমাজ ও পরিবারের মানুষের কাছে আমার মান-সম্মান ধুলোয় মিশে গেছে। আমরা পরিবার নিয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছি না। আমি এই অপরাধের সুষ্ঠু বিচার চাই।"সাংবাদিকরা হচ্ছে জাতির দর্পণ। এখন কথিত সাংবাদিক আর ভুয়া পেইজের কারণে আমার মত অনেক মানুষই আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমার মানহানির বিচার চাই।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) রতন সেখ বলেন, পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের হেনস্থা ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়ে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর। ভুক্তভোগীর অভিযোগটি খতিয়ে দেখে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় উক্ত পেজের পেছনের অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।