ট্রাম্প কেন হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করলেন

Date: 2026-05-06
news-banner

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে আলোচনায় “দারুণ অগ্রগতি” হয়েছে—এমন দাবি করে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, পারস্পরিক সম্মতিতে নৌ অবরোধ বহাল থাকবে, তবে একটি সম্ভাব্য চুক্তি চূড়ান্ত করার সুযোগ দিতে সামরিক অভিযানটি আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে।

এর আগে হোয়াইট হাউসে দেওয়া ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের একটি প্রতিরক্ষামূলক অভিযান শুরু করা হয়েছিল। তবে তিনি একইসঙ্গে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই তাদের মূল সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং সংঘাত বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই।

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত সংকট

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি সাম্প্রতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইরানের সামরিক হুমকির কারণে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।

এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নেয় এবং ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু করে, যার উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে প্রণালি পার করা।

অর্থনীতি ও বাজারে প্রভাব

ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে, যা সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কূটনৈতিক অগ্রগতি নাকি সাময়িক বিরতি?

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখন দুর্বল অবস্থায় এবং দেশটি বাস্তবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়। তবে এখনো তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা সরাসরি শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত না দিয়ে বরং সাময়িক কৌশলগত বিরতি হতে পারে, যেখানে উভয় পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ খুঁজছে।

আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা ও জটিল পরিস্থিতি

এই সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত এসব প্রচেষ্টা বড় কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনাও ফলপ্রসূ হয়নি বলে জানা গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে এবং তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে চীন সফরে গেছেন।

পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত

যদিও সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তবুও হরমুজ প্রণালি ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave Your Comments