বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক হিন্দু পরিবারের বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের পাঁচ নারী আহত হয়েছেন। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় গৃহকর্তা রবীন্দ্রনাথ ঢালী (৪৬) মঙ্গলবার শরণখোলা থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
আহতরা হলেন—রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী সীমা রানী (৩৫), মা দুলালী রানী (৭০), নানি বেলকা রানী (৯০), খালা বিমলা রানী (৬০) ও লীলা রানী (৬৫)। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন বৃদ্ধা মা ও নানি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উত্তর রাজাপুর গ্রামের রাজু শিকদার ও রাজৈর গ্রামের নাইম।
মামলার বাদী রবীন্দ্রনাথ ঢালী অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের দরজা-জানালা ও টিনের ছাউনি ভেঙে ফেলে এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, জমির দলিলসহ মূল্যবান কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রতিয়া রাজাপুর এলাকায় রবীন্দ্রনাথ ঢালী ও সোবহান হাওলাদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিসও হয়েছে। এর আগে ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
রবীন্দ্রনাথ জানান, তিনি ১৯৯৯ সালে নানার কাছ থেকে জমি কিনে সেখানে বসবাস করছেন। তবে সর্বশেষ জরিপে জমিটি তাঁর নামে রেকর্ড না হওয়ায় বিরোধ সৃষ্টি হয়। প্রতিপক্ষ ওই জমির দাবি করে উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে সোবহান হাওলাদার ও তাঁর ছেলে মিরাজ হাওলাদার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, জমিটি তাঁদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি এবং প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, “জমি বিরোধ থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত। ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২৫-৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।”