পড়া না পারায় শিক্ষার্থীকে মারধর করে জখমের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

Date: 2026-05-13
news-banner

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার একটি উচ্চবিদ্যালয়ে পড়া না পারার অভিযোগে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের বাগদুলী উচ্চবিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুল আহাদ খান বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার শ্রেণিকক্ষে পড়া ধরার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়া না পারায় তাদের বেত্রাঘাত করেন শিক্ষক। একপর্যায়ে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। আহত শিক্ষার্থীকে প্রথমে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা মুন্সী জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ছেলের পিঠে বেত্রাঘাতের চিহ্নে রক্ত বের হচ্ছিল। তিনি বলেন, কোনো অপরাধ করলে অভিভাবককে ডেকে ব্যবস্থা নেওয়া যেত, কিন্তু এভাবে নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষককে লাইব্রেরিতে আটকে রাখে। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুল আহাদ খান দাবি করেন, তিনি শিক্ষার্থীকে শাসন করেছিলেন। তবে শিক্ষার্থী তাঁর সঙ্গে অসদাচরণ করায় তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে তিনি ঘটনার জন্য অনুতপ্ত বলেও জানান।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনওকে জানানো হয়েছে।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডেকে শুনানি শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave Your Comments