মধ্যযুগের আরেকটি মসজিদকে মন্দির ঘোষণা: ভারতে কি এখন হিন্দু শাসন চলছে
Date: 2026-05-22
ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ধার শহরের ঐতিহাসিক ‘কামাল মাওলা মসজিদ’কে আদালতের রায়ে হিন্দু মন্দির হিসেবে ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে নতুন করে বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েক দশক ধরে চলা বিরোধের পর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি রায় দেন, ভোজশালা কমপ্লেক্সটি মূলত হিন্দু দেবী ‘বাগদেবী’র মন্দির ছিল। এরপর থেকেই মসজিদ চত্বরে হিন্দু ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্থানীয় মুসলিমদের দাবি, শতাব্দীপ্রাচীন এই মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে নামাজ আদায় হয়ে আসছিল। ৭৮ বছর বয়সী মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ রফিক, যিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে সেখানে আজান দিয়ে আসছিলেন, বলেন—“শুক্রবার পর্যন্ত মসজিদটি আমাদের ছিল, আজ আর নেই।”
রায়ের পর রোববার থেকে মসজিদ প্রাঙ্গণে গেরুয়া পতাকা টানানো হয় এবং সেখানে অস্থায়ীভাবে দেবীর মূর্তি স্থাপন করা হয়। কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মীদের ধর্মীয় স্লোগান ও নাচগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতে বিভিন্ন মসজিদকে মন্দির দাবি করার প্রবণতা বেড়েছে। এর আগে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ, বারানসির জ্ঞানবাপী মসজিদ এবং মথুরার শাহি ইদগাহ মসজিদ নিয়েও একই ধরনের বিরোধ দেখা যায়।
ইতিহাসবিদ Audrey Truschke এ ঘটনাকে “গভীর ইসলামভীতির বহিঃপ্রকাশ” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য Asaduddin Owaisi বলেন, এ ধরনের রায় ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। তিনি দাবি করেন, বাবরি মসজিদ মামলার রায়ের পর থেকেই এ ধরনের দাবি ও আইনি লড়াইয়ের পথ আরও উন্মুক্ত হয়েছে।
তবে হিন্দু সংগঠনগুলোর নেতারা আদালতের রায়কে “ঐতিহাসিক বিজয়” হিসেবে বর্ণনা করছেন। তাঁদের দাবি, এটি হিন্দু ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের অংশ।
এদিকে মুসলিমপক্ষ জানিয়েছে, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে।