নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলা শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রামিসা ও আছিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সেখানে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের সামনে ‘সোনারগাঁও উপজেলা খেলাঘর’-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে খেলাঘরের সদস্য, স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে শহীদ মিনার চত্বরে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনীতি ও পারস্পরিক বিরোধে ব্যস্ত থাকার কারণে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সমাজ ও রাষ্ট্র যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।
মানববন্ধনে খেলাঘরের সংগঠক মাহবুবুল ইসলাম সুমনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক রাজা রহমান, শিশু সাহিত্যিক ও সিসিমপুরের সাবেক কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহ আলম, খেলাঘরের সদস্য কাজী নাজমুল ইসলাম লিটু, উপজেলা উদীচী সভাপতি শংকর প্রকাশ, সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক রবিউল হোসাইন এবং হাদি আলমসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিগত প্রায় দেড় বছরে দেশে শত শত শিশু ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে এবং দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বক্তারা বলেন, “নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে। শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।”
বক্তারা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুরা কোথাও নিরাপদ বোধ করছে না, যা একটি স্বাধীন দেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ সময় রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দ্রুত বিচারের আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। শুধু কোনো আলোচিত ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর প্রশাসন তৎপর না হয়ে, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান পরিবেশিত সভার বক্তারা।