বিপ্লব ইসলাম, লংগদু (রাংগামাটি) :
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাহসী সৈনিক এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সুপরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ানকে জাতীয় রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চায় তৃণমূল বিএনপি ও পাহাড়ের সাধারণ মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা, দীর্ঘ সামরিক জীবন এবং পাহাড়ের মানুষের অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি ইতোমধ্যেই পাহাড়ে একজন গ্রহণযোগ্য ও সম্মানিত নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন।
১৯৭১ সালে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন মনীষ দেওয়ান। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের বিরল গৌরব অর্জন করেন তিনি। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি আজও পাহাড়ের মানুষের কাছে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে আছে।
স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। পরে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতিতে। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাহাড়ের জনগণের ন্যায্য অধিকার, উন্নয়ন, শিক্ষা, সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
রাঙামাটির স্থানীয় রাজনীতিতে মনীষ দেওয়ানের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাঙামাটি জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন,
মনীষ দেওয়ান শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি পাহাড়ের মানুষের আস্থার জায়গা। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার ভূমিকা অত্যন্ত সাহসী ও ইতিবাচক। দল যদি তাকে আরও বড় দায়িত্ব দেয়, তাহলে পাহাড়ের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
লংগদুর এক তৃণমূল বিএনপি কর্মী বলেন,পাহাড়ের মানুষের সুখ-দুঃখে মনীষ দেওয়ান সবসময় পাশে থেকেছেন। তিনি শিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক একজন নেতা। আমরা চাই তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে।
রাঙামাটির এক প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা জানান,মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে তিনি দেশপ্রেম ও আদর্শিক রাজনীতির অনুপ্রেরণা।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, পাহাড়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে গভীর অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তার সুসম্পর্ক কাজেই গুরুত্বপূর্ণ কোনো দ্বায়িত্ব পেলে জাতীয়তাবাদী দলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পাহাড়ের মানুষের অধিকার রক্ষার প্রত্যয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ান এখনও সক্রিয়। তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা,দল ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ভবিষ্যতে তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চান।