ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিতে পরিবর্তন ও দুর্বলতার অভিযোগ

Date: 2026-05-22
news-banner

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর দ্বিতীয় মেয়াদে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক কাঠামো ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত, হঠাৎ হুমকি ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনের কারণে ইউরোপ থেকে এশিয়া পর্যন্ত মিত্র দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগে বিকল্প কৌশল নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান না মেনে সরাসরি প্রেসিডেন্ট ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্য ও হুমকির পর ইউরোপীয় দেশগুলোতে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কিছু কূটনীতিকের মতে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও অনেক সময় প্রেসিডেন্টের অবস্থান পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারছে না।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ Margaret MacMillan বলেন, কূটনৈতিক কাঠামোর দুর্বলতা যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতে সংঘাত প্রতিরোধ ও সমঝোতা তৈরির সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

রয়টার্সের একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের অনেক মার্কিন দূতাবাসে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদূত নেই এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কাজ চলছে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রিজেট ব্রিঙ্কও অভিযোগ করেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় সহায়তা বন্ধসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব ছিল, যা কূটনীতিকদের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio প্রশাসনের এ পরিবর্তনকে সমর্থন করে বলেন, এতে কূটনীতি আরও কার্যকর ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে।

তবে সমালোচকদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনে সিদ্ধান্ত এখন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বদলে প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

Leave Your Comments