নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদযাত্রায় ট্রেন ভ্রমণকে স্বস্তিদায়ক মাধ্যম হিসেবে দেখা হলেও ইঞ্জিন সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’-সহ একাধিক ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছাড়ছে বা মাঝপথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ছে। ঈদুল ফিতরের ফিরতি যাত্রাতেও এমন দেরির ঘটনা ঘটেছে, যা এবার ঈদুল আজহায়ও পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তারা জানান, সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন পরিচালনার জন্য যে সংখ্যক ইঞ্জিন প্রয়োজন, তার তুলনায় অন্তত ৪০ থেকে ৪৫টি ইঞ্জিন কম রয়েছে। বর্তমানে কার্যকর ইঞ্জিনের সংখ্যা প্রায় ৭০ থেকে ৭৫টি হলেও কাগজে-কলমে অনেক বেশি ইঞ্জিন দেখানো হয়, যেগুলোর অনেকই মেরামত বা অচল অবস্থায় রয়েছে।
অধিক চাপের কারণে বিদ্যমান ইঞ্জিনগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা যাচ্ছে না, ফলে মাঝপথে বিকল হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। শুধু চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই ১০০ বারের বেশি ইঞ্জিন বিকলের ঘটনা ঘটেছে বলে রেলওয়ের তথ্য বলছে।
রেল কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ বড় ধরনের ইঞ্জিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ২০২০ সালে। এরপর নতুন ইঞ্জিন না আসায় পুরোনো যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা সমস্যাকে আরও জটিল করছে।
ঈদ উপলক্ষে ৮৮টি ইঞ্জিন প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে। তবে কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন, পুরো সময়সূচি নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইঞ্জিন এখনো ঘাটতি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অবকাঠামো নয়, ট্রেন পরিচালনার মূল উপাদান—ইঞ্জিন ও কোচ—সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
যাত্রীদের আশঙ্কা, ঈদের মতো চাপের সময়ে এই ইঞ্জিন সংকট আবারও ট্রেন ভ্রমণে বিলম্ব ও ভোগান্তি বাড়াতে পারে।